লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক বড় কমলাবাড়ি গ্রামের সাংবাদিক গোলাপ মিয়া তার দোকানঘর অবৈধভাবে ভাংচুর ও পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ করেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন এর বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিক গোলাপ মিয়া ক্ষতিপূরণসহ বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে,উপজেলার কুমড়িরহাট এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি বিগত ২০০৯ সালের ২ জুলাই তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিসহ কমিটির কাছে চুক্তিতে লিজ নিয়ে দোকান ঘর করে ব্যবসা করছেন গোলাপ মিয়া।চুক্তি মোতাবেক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কে নিয়মিত ভাড়া প্রদান করে আসছেন তিনি।সম্প্রতি অফেরতযোগ্য ২০ হাজার টাকা ও ভাড়া দেয়ার বন্দোবস্তকে অস্বীকার করে তাকে সরিয়ে অন্যকে লিজ দেয়ার পায়তারা চালান বর্তমান প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজল ও সভাপতি রফিজ উদ্দিন।কোনধরনের নোটিশ ছাড়াই গত রোববার(১৭ মে) বিকেলে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দল নিয়ে ওই দোকান ঘরটি ভাংচুর করে পুড়িয়ে দেন।লিজের কাগজপত্র দেখাতে চাইলে তা না দেখে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক।
এই ঘটনায় সাংবাদিক গোলাপ মিয়া ইউএনও সহ অভিযানে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
সাংবাদিক গোলাপ মিয়া বলেন, অনেকের মতো আমিও লিজ নিয়ে দোকান ঘরে ব্যবসা করে আসছি।কোনপ্রকার নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ করে ইউএনও পুলিশ নিয়ে এসে ভাংচুর করে দোকান পুড়িয়ে দেয়।
এই ঘটনায় আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, সাংবাদিক গোলাপ মিয়া আমাদের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি এবং পুলিশ দেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।ম্যানেজিং কমিটি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেছিলেন গোলাপ মিয়া অবৈধ ভাবে বিদ্যালয়ের জমি দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।এবিষয়ে থানা পুলিশ গোলাপ মিয়াকে সতর্ক করেছিলো এবং পোলাপ মিয়া ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বসে এই বিষয়টির সুরাহা করার কথা হয়েছিলো।কিন্তু তার আগেই রাতের আধারে গোলাপ মিয়া দোকানঘর তৈরি করলে ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষক বিষয়টি ইউএনও কে জানালে ইউএনও মহোদয় এবং থানা পুলিশ গিয়ে বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত করি।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে সাংবাদিক গোলাপ মিয়ার কাছে লিগাল কোন কাগজপত্র নেই।
উক্ত ঘটনার সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করে আদিতমারী উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বার্তা বাজার কে জানান, কোন উচ্ছেদ করা হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে।সাংবাদিকদের কাছে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
এবিষয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) লালমনিরহাটের সভাপতি খোরশেদ আলম সাগর বলেন, সাংবাদিক গোলাপ মিয়ার দোকানঘর ভাংচুর করে পুড়িয়ে দিয়ে অমানবিক কাজ করেছেন ইউএনও ও উচ্ছেদ অভিযানে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেকে।সাংবাদিক গোলাপ মিয়ার কাছে লিগাল কাগজ আছে লিজ নেয়ার।বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে কোর্ট বন্ধ থাকার পরেও কার অনুমতি নিয়ে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন তিনি।বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম লালমনিরহাট এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং ক্ষতিপূরণ সহ শাস্তির দাবী জানাচ্ছে।
বার্তা বাজার/টি.সি