চাল খেয়ে কার্ড ফেরত: উপকারভোগী জানেন না, তার নামে কার্ড!

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৩ ও ৪ নং ওর্য়াডে বিশেষ ওএমএস ১০ টাকার চালের কার্ড বিতরনে নানা অনিয়ম ও অভিযোগ পাওয়া গেছে । পৌরসভার এ দুটি ওর্য়াডে শনিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,,এসব ওর্য়াডে যার নামে কার্ড হয়েছে,যোগসাজস করে তার নাম ফ্লুটুড কালি দিয়ে মিশে নতুন নাম লিখে দেয়া হয়েছে । অনেক কার্ডে আবার সরাসরি নাম কলম দিয়ে কেটে নতুন নাম বসানো হয়েছে । বিষয়টি জানাজানি হলে পরে অাবার কার্ডের ভূয়া নাম কেটে পুনরায় প্রকৃত নাম বসিয়ে প্রকৃত উপকারভোগীকে কার্ড ফেরত দেয়া হয়েছে । অনেক কার্ডে উপকারভোগীর নেই স্বাক্ষর বা টিপসই।

এতে করে ১ম ও২য় ধাপে ১০ টাকার চাল কেনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অর্ধশত নিম্ন আয়ের মানুষ । এসব ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৪ নং ওর্য়াডে । স্থানীয়রা বার্তা বাজার কে অভিযোগ করে জানান, স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ডের আ.লীগ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনোয়ার হোসেন তার কর্মীদের দিয়ে এমনটা করেছেন । তার কাছে দেয়া ২৭২ টি কার্ডের অধিকাংশ কার্ডগুলোতেই দেখা যায় এমনটা । ” ৪নং ওর্য়াডের ভুক্তভোগী হাজরা বেওয়া বলেন,”বাহে মোর নামের কার্ড আসছে,মনোয়ার মোর নাম মিশি দিয়া আরেকজনক কার্ড দিছে,পরে আমি জানতে পারলে আমার কার্ড আমাক ফেরত দিছে ,আমি ৩০ কেজি চাল তুলকে পাই নাই ।”

আরেকজন ভুক্তভুগী প্রতিবন্ধী শেফালী রানীর বোন বলেন,”আমার বোনের নামেন কার্ড আছে আমরা জানি না,পরে শুনি মনোয়ারের কাছের লোক মহেন্দ্র,তার বোনের নাম শেফালি তাক কার্ড দিছে,পরে জানাজানি হলে আমার বোনের কার্ড আমাকে ফেরত দেয়,আমিও ২ ধাপের চাল তুলতে পারি নাই । ”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন,আমার কার্ডে এত কাটাকাটির কারণে আমি প্রথমে চাল তুলতে পারি নাই,অনেক হয়রানি হয়েছি,পরে মেম্বার সিল দিলে চাল তুলতে পারছি ।”

এরকম অর্ধশত অভিযোগ পাওয়া গেছে এই এলাকায় । যা অনেকে পুনরায় কার্ড হারানোর ভয়ে কিছু বলতে চাইছেন না।

কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৪নং ওর্য়াড কমিশনার মোঃ তাজ উদ্দিন ‘‘বার্তা বাজার’’ কে বলেন,” আমি আমার এলাকায় সুস্থভাবে অসহায়দের নাম সংগ্রহ করে কার্ড বিতরণ করেছি ,কোন সমস্যা হয়নি। শুধু ১ম ধাপের যে কার্ড গুলো মনোয়ার সাহেব নিয়েছেন সেগুলো সমস্যা হয়েছে।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কার্ডের নাম কাটাকাটি আমি করিনি। এরকম যাদের সমস্যা হয়েছে তাদের ৩জনের নাম আমি সিল দিয়ে ঠিক করে দিয়েছি, বাকিরা আসলে ঠিক করে দেবো সিল দিয়ে।

তিনিও অভিযোগ করে বলেন, কার্ডের নাম অদল বদলের বিষয়টি ওর্য়াড আ.লীগ নেতা মনোয়ার হোসেন করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা মনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার নামে অনেকে চক্রান্ত করছে,আমি কোন কার্ড কেটে অদল -বদল করি নি, কে বা কাহারা করছে আমি এটা জানি না ।”

এদিকে পৌরসভার ৩ নং ওর্য়াডে সরেজমিনে দেখা যায় কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার স্বামী/স্ত্রীর নামে ও যারা ভাতা কার্ডের সুবিধা পান তাদের নামেও ১০ টাকার এই বিশেষ ওএমএম চালের কার্ড পেয়েছেন । এ বিষয়ে ৩ নং ওর্য়াড কাউন্সিলর রোস্তম আলী তোতা আনেকটা ক্রদ্ধ হয়ে বার্তা বাজারকে বলেন,”আমি অনেক তাড়াহুড়া করে কাজ করেছি,এর মধ্যে ২/৪ টা ভুল হতেই পারে,তার জন্য কি জাত গেছে ?

কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৩ ও ৪ নং ওর্য়াডের এমন অনিয়ম নিয়ে ক্ষুদ্ধ প্রকৃত উপকারভোগীরা । এসব সার্বিক বিষয়ে কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোঃ মাসুদ এর সাথে দেখা করলে তিনি কোন ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি ।

বার্তা বাাজর/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর