২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন জনের লাশ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নাসিরনগর ও সরাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিন জনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে জেলা পুলিশ। প্রতিটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা এক একটি হত্যাকাণ্ড ধরে নিয়ে অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযানে নামার কথা জানান পুলিশ।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের দক্ষিণ সিংহগ্রাম এলাকার রঞ্জিত সরকারের ছেলে মোহনলাল সরকার গতকাল রোববার (১৭ মে) সকালে গরুর ঘাস কাটতে বিলে যান। কিন্তু সন্ধ্যা হলেও আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরে আজ সোমবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের একটি পাটক্ষেতে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

অপরদিকে রোববার বিকেলে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের কান্দি গ্রামের লঙ্গর নদী থেকে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী অজ্ঞাতনামা এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

নাসিরনগর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন জানান, নিহত মোহন লাল সরকারের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া অর্ধগলিত মরদেহটিও হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে নিখোঁজের ৩ দিনপর আজ সোমবার সকালে সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামের একটি খাল থেকে কবির (১৮) এর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কবির মিয়া নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া গ্রামের সাব্বির মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা জানান, নিহত কবির মিয়া পিকআপ ভ্যানের হেলপার ছিলেন। গত ১৪ মে রাত ১০টার দিকে বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় কবির। এরপর আর ফিরে আসেনি। তাকে স্বজনেরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজেও পায়নি। সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গতকাল রোববার রাতে কবিরের বাবা সরাইল থানায় একটি সাধারন ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে আজ সোমবার সকালে পাশ্ববর্তী ইসলামাবাদ গ্রামের একটি খাল থেকে কবিরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ নাজমুল আহমেদ জানান, ওই যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রতিটি ঘটনাকে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড মনে করে আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে অপরাধীদের ধরার জন্য মাঠে কাজ করছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর