উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে মানছেন মার্কেট মালিকেরা

ঢাকার সাভার উপজেলায় পাঁচ দিন মার্কেট ও শপিং মল খোলা রাখার পর গত ১৬ মে, ২০২০ ইং তারিখে উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর গত ১৭ মে তারিখ থেকে সব বন্ধ করে দেবার ঘোষণা কঠোরভাবে মেনে চলেছেন মার্কেট মালিকরা। রবিবার (১৭ মে) সাভার ও আশুলিয়ার সকল মার্কেট ও শপিং মলগুলো ঘুরে এসে বিষয়টি জানা গেছে।

সরেজমিন আশুলিয়ার ডিইপিজেড, ভাদাইল, বাইপাইল, পল্লীবিদ্যুৎ, নবীনগর হয়ে সাভার ও হেমায়েতপুর গিয়ে দেখা গেছে সকল মার্কেট, বিপনীবিতান ও শপিং মল বন্ধ হয়ে আছে। ডিইপিজেড এলাকার শমশের প্লাজা, হাশেম প্লাজা, বাইপাইলের করিম সুপার মার্কেট, নবীনগরের সেনা মার্কেট, সাভার নিউ মার্কেট, সিটি সেন্টার, রাজ্জাক প্লাজা, অন্ধ সুপার মার্কেট, ভরসা সুপার মার্কেট সহ হেমায়েতপুর এলাকার সকল মার্কেট বন্ধ দেখা গেছে।

ছবি: বার্তা বাজার

তবে বড় বড় এসব মার্কেট ও শপিং মল বন্ধ থাকলেও, ফুটপাতের ভ্রাম্যমান হকারদের কিছু দোকান ঘিরে সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। সেখানে মানা হয়নি নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব। আর সাভারের কাঁচা বাজার, মাছ বাজার ও মুদি দোকানগুলোতেও সামাজিক দূরত্ব কেউ বজায় রাখছেন না। ওভারব্রিজগুলো দিয়ে শরীরে শরীর লাগিয়ে মানুষজন চলাফেরা করছেন।

গার্মেন্টস খোলা রাখার কারণে মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত ‘থ্রি-হুইলার’ এবং টেম্পুতে পোশাক শ্রমিকেরা অবাধে যাতায়াত করছেন। পাশাপাশি বসে চলাফেরা করায় বাড়ছে করোনা সংক্রমনের হার। শ্রমিকদের পরিবহন করা বাসেও গাদাগাদি করে শ্রমিকেরা বসে যাতায়াত করছেন। মোটকথা, করোনা ভীতির চেয়ে সাভারেরর শ্রমিকদের চাকরি বাঁচানোর ভয়ই বেশী পরিলক্ষিত হয়েছে এবিষয়ে তাদের নির্বিকার মনোভাব দেখে।

ছবি: বার্তা বাজার

তবে, সাভার উপজেলা প্রশাসনের মার্কেট ও শপিং মল বন্ধের সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী বলে জানালেন সাধারণ সাভারবাসী। এই প্রতিবেদকের নিকট কয়েকজন এব্যাপারে তাদের মতামত খোলাখুলি জানালেও, সাভারে পোশাক শিল্প খোলা রাখায় সাভারে করোনা সংক্রমনের হার বৃদ্ধি এবং ‘কম্যুনিটি স্প্রেডিং’ এর মূল কারণ অভিহিত করে এবিষয়ে তারা তাদের ক্ষোভ জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে, ২০২০ তারিখে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তি দ্বারা সাভারবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মৃত্যুর ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ১৭ মে, ২০২০ তারিখ হতে সকল ধরণের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যাদির দোকান, কাঁচা বাজার এবং ঔষধের দোকান এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে বলে ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বার্তা বাজার/টি.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর