করোনা আক্রান্ত চিকিৎসককে না নিয়েই ফিরে গেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত মূমূর্ষ এক চিকিৎসককে না নিয়েই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ফিরে গেছে। ওই চিকিৎসকের উন্নত চিকিৎসার জন্য য়ার অ্যাম্বুলেন্স করে ঢাকায় নেয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার কারণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ফিরে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

একটি সূত্র দাবী করছে, করোনা রোগী জানার পরেই অ্যাম্বুলেন্সটি রোগী না নিয়েই চলে গেছে।

কিন্তু চিকিৎসক নেতারা বিষয়টি অস্বীকার করে বলছেন, নির্ধারিত সময়ে রোগী প্রস্তুত না থাকায় রোগী ছাড়াই অ্যাম্বুলেন্সটি ফিরে গেছে।

ডবলমুরিং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সদীপ কুমার দাশ জানান, রোগী নেয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসার বিষয়টি আগে পুলিশকে অবহিত করা হয়নি। পরে খবর পেয়ে আমরা আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন রোগী প্রস্তুত ছিলো না বলে অ্যাম্বুলেন্স ফিরে গেছে। স্থানীয়দের বিরোধীতার বিষয়টি তারা আমাদেরকে জানাননি। আমাদেরকে জানানো হলে আমরা তাৎক্ষণিকভঅবে ব্যবস্থা নিতে পারতাম।

এ ব্যাপারে আগ্রাবাদ আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. নুরুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন এই চিকিৎসক। এমনকি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিলো।

চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী জানান, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. এস এম জাফর হোসাইন রুমী গত কয়েকদিন ধরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিকালের দিকে তার অক্সিজেন ঘাটতি দেখা দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়।

তিনি আরও জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা ছিলো বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে রোগী নিয়েই ঢাকায় ফিরে যাবে। সে অনুযায়ী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আগ্রাবাদ বহুতল কলোনী এলাকায় এসে নামে। কিন্তু রোগী প্রস্তুত করতে অনেকটা দেরী হয়ে যায়। এর মধ্যে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় রোগী না নিয়েই অ্যাম্বুলেন্সটি চলে যায়। তাদের বক্তব্য ছিলো অন্ধকার হয়ে গেলে অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা পৌঁছাতে সমস্যা হবে। তাই তারা দেরি করতে রাজি হয়নি। সোমবার সকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি পুনরায় রোগী নিতে আসার কথা রয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাতে বেশ কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ছবির আশ-পাশে কিছু মানুষও দেখা যাচ্ছে।

তাতে বলা হয়, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে রোগী নেয়া হলে আশপাশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্থানীয় লোকজন রোগীকে আর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উঠতে দেয়নি। আর স্থানীয়দের বাধার মুখে রোগী না নিয়েই অ্যাম্বুলেন্সটি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। হেলিকপ্টারটি বেশ কয়েকবার ওই এলাকায় চক্কর দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় সেখানে।

এ নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে। ।।সময় সংবাদ।।

বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর