সাতক্ষীরার আশাশুনিতে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় এক স্কুল শিক্ষক গুরতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই শিক্ষক বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় শনিবার সন্ধ্যায় ৩জনকে আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আহত ওই স্কুল শিক্ষকের নাম ইলিয়াছ হোসাইন। তিনি আশাশুনি উপজেলার কলিমাখালি গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মাদ গাজীর ছেলে ও মাড়িয়ালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক।
দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, আসামী আশাশুনি উপজেলার কলিমাখালি গ্রামের নুরুল ইসলাম গাজীর ছেলে সাইফুল ইসলাম, তার স্ত্রী পারুল ও বহিরাগত মাদক ব্যবসায়ী সেলিম গত ১২ মে সন্ধ্যায় ৬টার দিকে উক্ত শিক্ষকের বাড়ির সামনে প্রাইমারী স্কুল এলাকায় রাস্তার উপর আসামীরা ওৎপত থাকে। এসময় বাদী ওই শিক্ষক বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ার সময় আসামীরা তাকে পথরোধ করে অবৈধ অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারপিট করে গুরুতর আহত করে। এ সময় তারা জানায়, তার (শিক্ষকের) কারণে তাদের মাদক ব্যবসায় ক্ষতি হয়েছে। তারা ব্যবসা করতে পারছে না। এজন্য তারা ওই শিক্ষকের কাছে ৫লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। বাদী ওই শিক্ষক চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আসামীরা সস্ত্রাসী কায়দায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্য মারপিট করে। এসময় উক্ত শিক্ষকের বাম হাতের কব্জি থেকে ভেঙ্গে যায়। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসক ও পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে হাসপাতালের ভর্তি ফরম উল্লেখিত হাড়ভাঙা জখমের কাগজপত্রসহ শনিবার আশাশুনি থানায় তিনি একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। বর্তমান ওই শিক্ষক ও তার পরিবার সস্ত্রাসীদের ভয়ে আতঙ্ক দিন কাটাচ্ছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করেছেন। একইসাথে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দূধর্ষ এসব মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও জোর দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপার আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মাহাফুজুর রহমান (তদন্ত) জানান, অভিযোগ জমা হতে পারে তবে এখনও আমার হাতে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বার্তা বাজার/টি.সি