করোনা ছড়াচ্ছে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ফেরত, ক্ষুব্ধ আলফাডাঙ্গাবাসী

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় করোনাভাইরাস ছড়ানোতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ফেরত ব্যক্তিরা দায়ী বলে অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ফেরত একের পর এক করোনা আক্রান্ত রোগীর টেস্ট পজিটিভ আসায় ‍চটেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এ পর্যন্ত চারজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রথম যে ব্যক্তিটির করোনা শনাক্ত হয়েছে তিনি ঢাকা ফেরত। ঢাকার একটি শপিং কমপ্লেক্সের সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। দ্বিতীয় যে ব্যক্তিটির করোনা পজিটিভ এসেছে তিনিও ঢাকা ফেরত। তিনি ঢাকার মিরপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। এ উপজেলায় তৃতীয় যে ব্যক্তিটির পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে তিনি নারায়ণগঞ্জ ফেরত। তিনি নারায়ণগঞ্জে একটি জাহাজের শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন। সবশেষ চর্তুথ যে ব্যক্তির করোনা শনাক্ত হয়েছে তিনিও ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ফেরত। তিনি নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকার একটি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ফেরত ব্যক্তিরা আলফাডাঙ্গাতে আসার পর দেদারসে ঘুরে বেরিয়েছেন। গেছেন হাট-বাজার ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও। ফলে এ উপজেলায় করোনা সংক্রমনের জন্য ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ থেকে আসা মানুষদের নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় রয়েছি আমরা।

তারা বলছেন, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে যারা এসেছেন তাদের যে কোনভাবে ঘরে রাখতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। নয়লে আলফাডাঙ্গাতে অচিরেই মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই প্রাণঘাতি ভাইরাস।

শুধু তাই নয়, সোশাল মিডিয়াতে আলফাডাঙ্গার বিভিন্ন পেজ, গ্রুপ ও আইডিতে অনেকেই অভিযোগ করেছেন- ‘আলফাডাঙ্গায় পুরোপুরি লকডাউন করলে কোনো করোনা রোগী পাওয়া যেত না। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মানুষ গুলোকে ঢুকতে দেওয়ায় ভাইরাস ছড়িয়েছে এ উপজেলায়। এটার জন্য সেই অসচেতন ব্যক্তিরাই দায়ী।’

এদিকে, গত কয়েক সপ্তাহ আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ উপজেলায় প্রবেশের বেশ কয়েকটি প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়া হলেও বর্তমান তা শিথিল করা হয়েছে। এরপর থেকে থেমে নেই আক্রান্ত জেলাগুলো থেকে আলফাডাঙ্গা উপজেলায় মানুষের প্রবেশ।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান আলফাডাঙ্গা উপজেলার বর্তমান করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে “বার্তা বাজারকে” বলেন, আলফাডাঙ্গাকে করোনামুক্ত রাখতে হলে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ মানুষের আসা বন্ধ করতে হবে। আর যারা এরই মধ্যে এসেছে তাদের চিহ্নিত করে আমাদেরকে জানাতে হবে। যাতে আমরা এসব মানুষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে পারি এবং তাদের ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুর রহমান “বার্তা বাজারকে” জানান, ‘ঢাকা এবং নারায়নগঞ্জ থেকে বেশ কিছু মানুষ বিভিন্নভাবে আলফাডাঙ্গা উপজেলায় চলে এসেছে। এছাড়া সামনে ঈদের সময়ও অনেকে আসতে চেষ্টা করবে। আমি জনগণের প্রতি আহবান জানাই, আপনারা যদি জানেন যে কেউ ঢাকা কিংবা নারায়নগঞ্জ থেকে এসেছে, তাহলে অনুগ্রহ করে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বা জনপ্রতিনিধিদের জানাবেন।’

বার্তা বাজার/টি.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর