মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে স্থবির হয়ে আছে গোটা দেশ। লকডাউনের মধ্যে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ’ই। অনেকে কাজ না থাকায় অনাহারে পার করছেন দিন।
স্থানীয় প্রশাসনের যেসব সহযোগিতা পাচ্ছেন তা খুবই অপ্রতুল। এমতবস্থায় নিজেদের খাবার যোগাড় করতে হিমসিম খাচ্ছেন ,সেখানে পশু বা পাখিদের খাওয়ানোর কথা কারও মাথাতেই আসে না। যার ফলে রাস্তার কুকুর-বিড়ালরা অনাহারে কষ্ট পাচ্ছে ।আর এসব কুকুর-বিড়ালদের খাদ্যের জোগান দিতে এগিয়ে এসেছে কুড়িগ্রামের একদল যুবক।

কুড়িগ্রাম জেলা শহরের কালিবাড়ী,সুজামের মোড়,বাজার রোড,কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ চত্বর,দাদা মোড়,জিয়াবাজার সহ আশ-পাশ এলাকায় রাত সাড়ে ৮টার পর গেলেই চোখে পড়বে এই যুবকদের। প্রতিদিন রাত ৯টার দিকে কালিবাড়ি এলাকা থেকে হাতে হাতে খাবারের বালতি নিয়ে হেঁটে হেঁটে ৬০/৭০ টি কুকুর-বিড়ালদের খাওয়ান এই যুবকরা।
এলাকাবাসী আর নিজেদের উঠানো চাঁদার অর্থ দিয়ে প্রতিদিন রান্না করা সবজি খিচুরী তারা বিতরণ করেন এসব অনাহারী পশুদের মাঝে। আর যেদিন সাহায্য বেশি ওঠে সেদিন এসব পশুদের ভাগ্যে খিচুরীর সাথে ডিম জোটে। ৭ সদস্যের এই দলটিতে স্বেচ্ছায় কাজ করছেন জয়ন্ত আগরওয়াল,সাধন বনিক,আনন্দ বনিক,সাগর বনিক,প্রদিপ বনিক,তাদের মনু ভাই ও শ্রেষ্ট সাহা।
যুবকদের একজন গতকাল ১৫ মে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে খাবার বিতরণের সময় জানান,”আমরা আজ ২৮ দিন ধরে প্রতিদিন রাস্তার এইসব পশুদের খাবার দিচ্ছি, এসব পশুদের এখন খুঁজতে কষ্ট হয় না,সঠিক সময়ে তারা নির্দিষ্ট জায়গায় আমাদের খাবারের আশায় থাকেন।”আরেকজন যুবক বলেন,”আমাদের এলাকাবাসীরা প্রতিদিন অল্প অল্প করে সহযোগিতা করছেন ,যদি দয়ালু সামর্থবানরা আমাদেরকে সহযোগিতা করেন তাহলে আমরা আরো বেশিদিন এই কার্যক্রম করোনা পরিস্থিতিকে চালু করে রাখতে পারবো।”
উল্লেখ্য,গত কয়েকদিন আগে মোল্লাপাড়া ও পুরাতন থানা পাড়ার যুবকরা দু দফায় এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন
কেএ/বার্তাবাজার