চট্টগ্রাম বন্দরে খালি কন্টেইনারের স্তুপ

ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত হিমায়িত পণ্যবোঝাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রিফার কন্টেইনার নিয়ে বিপাকে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দর ও অফডকগুলোতে পণ্যবোঝাই কন্টেইনার নয়, খালি কন্টেইনারের স্তুপ জমেছে। ১৯টি অফডকে থাকা ৬৫ হাজার কন্টেইনারের ৪০ হাজারই খালি। আর বন্দরেও জমে আছে ৫ হাজারের বেশি খালি কন্টেইনার।

আর এই খালি কন্টেইনারকেই বন্দর ও অফডকে ভয়াবহ জটের কারণ হিসেবে দেখছে অফডক মালিকদের সংগঠন বিকডা।আর শিপিং এজেন্ট

এসোশিয়েশন বলছে, করোনার কারণে বিশ্ব বাণিজ্যে মন্দা নামায় খালি কন্টেইনারের চাহিদা কমেছে। আর বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফোর্স শিপমেন্টের কথা ভাবছেন তারা।

করোনার কারণে আমদানী খুব একটা না কমলেও, রপ্তানী বাণিজ্য নেমে এসেছে ৫ ভাগের এক ভাগে। ফলে খালি কন্টেইনারের সংখ্যা বাড়ছে বন্দরে ও বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো বা অফডকে। বন্দরের ইয়ার্ড ও ডিপোতে ধারণক্ষমতার বেশি জমে থাকা কন্টেইনারের মধ্যে বেশিরভাগই খালি। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই খালি কন্টেইনার জাহাজীকরণ করতে না পারলে, ক্ষতিগ্রস্থ হবে দেশের আমদানী রপ্তানী বাণিজ্য।

করোনা পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে অঘোষিত লকডাউনে আমদানী পণ্য খালাস প্রক্রিয়া চলছে ঢিমেতালে। তাই পণ্যভর্তি কন্টেইনার রাখার জায়গার সংকুলন করতেই হিমসিম খাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই বাস্তবতায় খালি কন্টেইনার ফোর্স শিপমেন্ট শুরু করার কথা চিন্তা চলছে বলে জানান বন্দরের সচিব।

আর শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন বলছে, আমদানী রপ্তানী কমে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপীই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তাই ব্যবসায়িক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ফোর্স শিপমেন্টের আগে শিপিং কোম্পানীগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে খালি কন্টেইনার পাঠানোর উদ্যোগ নিতে পারে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের রেকর্ড বলছে, আমদানী পণ্য নামিয়ে দেয়ার পর বাংলাদেশ থেকে খালি কন্টেইনারের বড় অংশটিই যেত চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে। করোনার কারণে ওইসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চাহিদা কমেছে খালি কন্টেইনারের। ফলে সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর