ত্রাণ চাওয়ায় ৭ জনকে পেটালেন ইউপি সদস্য

পিরোজপুরের নাজিরপুরে অসহায়দের ত্রাণ চাওয়া নিয়ে হামলায় ২ নারীসহ ৭ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) রাতে উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের ৭নং ছৈলাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতরা হলেন- স্থানীয় ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৪৫), কদম আলী শিকদার (৫৫), শহীদ হাওলাদারের পুত্র সাব্বির হাওলাদার (২২), সিরাজ উদ্দিন বেপারীর স্ত্রী ফুল মালা বেগম (৬০), রাজু শিকদার (৫০), রফিক বেপারী (৫০), আব্দুল আজিজ বেপারী (৬০)।

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত সুফিয়া বেগম বলেন, ওই রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে সরকারি আর্থিক অনুদান প্রদানে বিষয়ে জানতে চাইলে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে আহত করে।

হামলায় আহত কদম আলী শিকদার বলেন, ইউপি সদস্য মন্টু ও তার ৪০/৫০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ঢুকে আমাদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের ৭ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ইউপি সদস্য এর আগেও স্থানীয়দের কাছ থেকে সরকারি ঘর দেয়ার কথা বলে বিভিন্নভাবে টাকা নিয়েছেন। সরকারি অনুদানের তালিকা নিয়ে তিনি ব্যাপক স্বজন প্রীতি করেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মন্টু বলেন, এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেন শিকদারের নাম সরকারি আর্থিক অনুদানের তালিকায় না থাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় রফিকের চায়ের দোকানের সামনে বসে আমার উপর হামলা করে। এ নিয়ে রাতে সালিশ বৈঠক হয়। এসময় সেখানে থাকা আমার লোকজনের উপর স্থানীয়রা হামলা করে। অন্ধকারের মধ্যে কারা কাদের উপর হামলা করেছে তা আমার জানা নেই।

তিনি আরও বলেন, আর্থিক অনুদানের তালিকা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের লোকজন করেছেন। আমি তালিকার ব্যাপারে কিছু জানি না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আশুতোষ বেপারী বলেন, বিষয়টি দু’একদিনের মধ্যে সালিসি বৈঠকের মাধ্যমে মিটমাট করে দেয়া হবে। শুক্রবার রাতে সরকারী আর্থিক সাহায্য নিয়ে ইউপি সদস্য মন্টুকে মারধর করেছে। এ নিয়ে ওই রাতে সালিশ বৈঠকে বসলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে শুনেছি।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর