চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী তিন লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। তবে এ ভাইরাস আফ্রিকা মহাদেশে আগ্রাসী ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। শুক্রবার (১৫ মে) এমন তথ্য দেয় জার্মানির বার্তা সংস্থা ডয়েচে ভেলে ও এএফপি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আফ্রিকা মহাদেশের বেশকিছু অঞ্চলের প্রায় ২৫ কোটি মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হতে পারে ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষের! এ নিয়ে আফ্রিকার ৪৭টি দেশের ওপর করা একটি গবেষণাও প্রকাশ করেছে বিএমজে গ্লোবাল হেলথ জার্নাল।
গবেষকেরা ধারণা করছেন, আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় একশ’ কোটি মানুষের ২২ শতাংশ তথা প্রায় ২৫ কোটি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। যার মধ্যে মৃত্যু হতে পারে দেড় লাখের বেশি মানুষের।
ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও আফ্রিকা মহাদেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ এখন পর্যন্ত ইউরোপ, আমেরিকা থেকে অনেক কম। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য অবকাঠামো ভেঙে পড়তে খুব বেশি সময় লাগবে না।
গবেষকদের দাবি, আফ্রিকা মহাদেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামো অনুযায়ী প্রায় ৪৬ লাখ মানুষকে হাসপাতালে জায়গা দেওয়া যাবে। আর ১ লাখ ৪০ হাজার রোগীর জন্য অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা যাবে। আর কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্রের ব্যবস্থা করা যাবে মাত্র ৮৯ রোগীর জন্য।
আফ্রিকায় এইচআইভি, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, পুষ্টিহীনতা ইত্যাদি নানা সমস্যায় আগে থেকে রয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাব আসলে তা আরও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রতিবেদনে বলেছেন।
আফ্রিকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তার বেশিরভাগ নাইজেরিয়া, আলেজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার। মৌরিতানিয়া, সিচেলিস ও ইরিত্রিয়ায় আক্রান্ত পাওয়া যাচ্ছে। তবে মরিশাস, সিচেলিস ও নিরক্ষীয় গিনি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মত গবেষকদের।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস