হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য যান হাসপাতালে। কিন্তু করোনা সন্দেহে চিকিৎসা করেনি ডাক্তাররা। জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে রাজধানীর কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতলের দ্বারস্থ হলেও ভর্তি নেয়নি। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যান লালমাটিয়ার ব্যবসায়ী শামীম নেওয়াজ খান (৫৮)।
গত সোমবার এ ঘটনা ঘটলেও গতকাল বুধবার মৃতের ছেলে শানিদ নেওয়াজ খান এ তথ্য জানান। শানিদ নেওয়াজ খান বলেন, ‘১১ মে আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে বাবার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে তাকে অবজারবেশনে অক্সিজেন দিয়ে রাখার পাশাপাশি ইসিজিসহ কয়েকটি টেস্ট করানো হয়। এতে দেখা যায়, ওনার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। সঙ্গে জ্বরও ছিল।
তাই করোনা সন্দেহে তারা আর চিকিৎসা না দিয়ে দ্রুত হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলেন। পরে ঢাকা মেডিক্যালে রেফার করে তাতে লিখে দেওয়া হয়Ñ করোনা সাসপেস্ট। অথচ প্রচ- শ্বাসকষ্ট থাকায় বাবার সিসিইউ (করোনারি কেয়ার ইউনিট) সাপোর্ট দরকার ছিল। তাই হার্ট ফাউন্ডেশন ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে তারাও চিকিৎসা দিতে অপারগতা
প্রকাশ করে। একপর্যায়ে ইউনিভার্সেল মেডিক্যালের চাপাচাপিতে সন্ধ্যা ৭টায় অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়ার পথেই বাবা মারা যান।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার দিন সকালেই বাবার করোনার টেস্ট করতে দেওয়া হয়। পরদিন রেজাল্ট পাই, তিনি ভাইরাসটিতে আক্রান্ত নন। অথচ করোনা সন্দেহে আমার বাবা বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন।’
কেএ/বার্তাবাজার