‘দয়া কইরা লাশটা আইনা দেন’

‘দয়া কইরা আমাগোরে লাশটা আইনা দেন। এহন আমগোরে সংসার কেমনে চলবো। সুদি ঋণ কিবায় সুদাবো।’ এভাবেই প্রলাপ করছিলেন আর বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাহাদুরের (৩৫) প্রতিবন্ধী স্ত্রী রাশেদা বেগম।

বাহাদুরের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ঝগড়মান গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বাহাদুরও রয়েছেন। একই দুর্ঘটনায় কালিহাতীর আরো একজন নিহত হন। তিনি হলেন উপজেলার কস্তুরীপাড়া গ্রামের শামছুল হকের ছেলে মনির হোসেন (২০)।

শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দু’জনের বাড়িতেই চলছে শোকের মাতম। শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

জানা গেল, বাহাদুরের বাবা, বোন, স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ে সবাই প্রতিবন্ধী। মা-ও খুব অসুস্থ। পরিবারের সুখের জন্য তিনি বিদেশ পাড়ি জমিয়েছিলেন। অবশেষে পরিবারের সবাইকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে বাহাদুর চলে গেলেন না ফেরার দেশে। এখন পরিবারের একটাই দাবি- অন্তত বাহাদুরের লাশটি যেন তারা দ্রুত ফিরে পান।

এ অবস্থায় কালিহাতী পৌরসভার মেয়র আলী আকবর অতি দ্রুত এই পরিবারের সবার জন্য প্রতিবন্ধী কার্ডের ব্যবস্থা করে দিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

অন্যদিকে নিহত মনির হোসেনের মা মমতাজ বেগম আহাজারি করে বলেন, ‘আমার পোলার লাশটা তোমরা আইনা দেও। আমার বাবারে আমি শেষবারের মতো দেকপার চাই।’

জানা যায়, মনির হোসেনের বাবা শামছুল হক ইরাক প্রবাসী। সেখানে এক মাস আগে কাজ করার সময় তার বাম হাতের চারটি আঙ্গুল মেশিনে কাটা পড়ে। বর্তমানে তিনি ইরাকেই চিকিৎসাধীন আছেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ২ মে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরের সাকরা শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ বাংলাদেশী নিহত হন।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর