নান্দাইলে আওয়ামী লীগ নেতার ভয়ংকর শিশু নির্যাতন

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু ওয়ার্ডের বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে ১১ থেকে ১২ বছর বয়সের মো. ইজাজুল। পাশে মা নুরুন্নাহার বেগম বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন আর চোখ দিয়ে পানি ঝরছে।

কাছে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকার এক আওয়ামী লীগ নেতার একটি রাজহাঁসের বাচ্চা হারিয়ে যায়। আর এর দায় চাপানো হয় আমার অবুঝ ছেলের ওপর। এ অবস্থায় নেতা তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে বেদম পিটিয়ে আধমরা করে ফেলে। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে গেলে গত সোমবার রাত ২টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে এলে জরুরি বিভাগ থেকে স্থানান্তর করা হয় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। টাকার অভাবে অসহায় মা-বাবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিখিত দিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালেই রাখেন। এ ঘটনায় ওই আওয়ামী লীগ নেতাসহ দুজনকে আসামি করে গত মঙ্গলবার রাতে মামলা এফআইরভুক্ত হয়।

আজ বুধবার সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই শিশুটি হচ্ছে নান্দাইল উপজেলার দাতারাটিয়া গ্রামের আবদুস সাত্তারের পুত্র। গত সোমবার ইফতারের আগে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দাতারাটিয়া বাজার থেকে ফেরার পথে মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছেন নান্দাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল্লাহ।

হাসপাতালের দোতলায় গিয়ে দেখা যায়, আহত শিশুর স্যালাইন চলছে। ডাকাডাকি করলেও সে কোনো সাড়া দেয়নি। ইজাজুলের মা মোছা. নুরুন্নাহার বলেন, আমরা গরিব মানুষ। তাই বলে আমার ছেলের বিরুদ্ধে হাঁস চুরির অভিযোগ ঠিক নয়। এ ধরনের বানোয়াট অভিযোগে আমার শিশু ছেলেটিকে পিটিয়ে আধমরা করে ফেলেছেন আ্ওয়ামী লীগ নেতা নুরুল্লাহ। তিনি গরিব পরিবারের শিশুর সাথে ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন।

জরুরি বিভাগে শিশুটিকে দেখেছেন ডা, দেবাশিষ দাস। তিনি বলেন, শিশুটির ভেতরে সমস্যা থাকার কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত জেলা শহর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এ বিষয়ে শিশুকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল্লাহ বলেন, ইজাজুল একটা চিহ্নিত চোর। সে এলাকায় হাঁস-মুরগি চুরি করে। তবে তিনি মারধর করেননি। শুধু ধমক দিয়েছেন। এতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কি হলো!
সূত্র: কালের কন্ঠ।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর