হিমালয়ে ভারতের নতুন রাস্তা, প্রতিবাদ নেপালের

হিমালয়ের পার্বত্য এলাকায় ৮০ কিলোমিটার লম্বা লিঙ্ক রাস্তা তৈরি করেছে ভারত। এ নিয়ে ভারত ও নেপাল বিরোধ শুরু হয়েছে।ভারতের দাবি, নতুন ওই রাস্তাটি সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় ভূখন্ডের মধ্যে নির্মিত হয়েছে। নেপালও একই দাবি করেছে।

সম্প্রতি সীমান্তের লিপুলেখ এলাকায় একটি লিঙ্ক রোডের উদ্বোধন করেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এর পরই নতুন দাবি তুলে নেপাল। ভারতের উত্তরাখন্ড, চীনের তিব্বত আর নেপালের সীমানা যেখানে মিশেছে সেখানে হিমালয়ের একটি গিরিপথের নাম লিপুলেখ। ওই গিরিপথের দক্ষিণের ভূখন্ডটি ‘কালাপানি’ নামে পরিচিত। এলাকাটি ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নেপাল তাদের অংশ বলে দাবি করে থাকে।

এ বিষয়ে নেপালি কংগ্রেসের এমপি পুষ্পা ভূষল গৌতম জানান, ১৮১৬ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও নেপালের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাগাউলি চুক্তি অনুসারে ওই এলাকা সম্পূর্ণভাবে নেপালের।

নেপালের সংসদ সদস্য গগন থাপা হুঁশিয়ারি দেন, নেপালের এক ইঞ্চি জমিও কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আর ভারতের এই দাদাগিরির বিরুদ্ধে নেপালের সিংহভাগ মানুষ গর্জে উঠবে। নেপালের রাজনীতিতে ভারতবিরোধী হাওয়া প্রবল। কেন নেপাল এত কঠোর পদক্ষেপ নিল, সে প্রশ্নের জবাবে দিল্লিতে সিনিয়র কূটনৈতিক সংবাদদাতা দেবীরূপা মিত্র গণমাধ্যমকে বলছিলেন, সে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই এর পেছনে আছে বলে আমার ধারণা।

‘তবে আমাকে যেটা অবাক করেছে তা হল পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়ে তার হাতে নোট তুলে দিয়েছেন – যে কাজটা তিনি সচিবকে দিয়েও করাতে পারতেন’ বলছিলেন দেবীরূপা মিত্র।

এদিকে, কালাপানির ওপর ভারতের দাবিরও ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে বলে মনে করেন নেপালে নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দেব মুখার্জি, তবে রাস্তা উদ্বোধনের বিষয়টা অন্যভাবে করা যেতে পারত বলেও তার অভিমত।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর