ভোলার দৌলতখানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের এক ল্যাব সহকারীর বিরুদ্ধে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি তার বাড়ি লকডাউন করা হয়। কিন্তু প্রশাসনের সেই নির্দেশ অমান্য করে করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তি বাহিরে ঘোরাফেরা করায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সচেতন লোকজন তাকে বাইরে বের হতে নিষেধ করায় তিনি উল্টো তাদের ওপর চড়াও পর্যন্ত হচ্ছেন। তবে, ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
ভোলা সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালী জানান, ভোলার দৌলতখান হাসপাতালের ল্যাব অ্যাসিসট্যান্ট কামরুজ্জামান মজনু নমুনা পরীক্ষার পর গত ১০ই মে তার রির্পোট পজেটিভ আসে। এরপর তাকে ভোলা জেলা শহরের টাউনস্কুল মাঠ সংলগ্ন বাসায় হোম আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়। পাশাপাশি ওই রাতেই প্রশাসনে পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করে তার বাড়ি লকডাউন করা হয়।
কিন্তু স্থানীয়রা এলাকাবাসী জানায়, মজনু লকডাউনের নির্দেশ না মেনে সোমবার থেকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরনোয়াবাদ হাওলাদার মার্কেটের তার ঔষধের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আর্থিক লেনদেনসহ অনেকের সঙ্গেই দেখা করেন।
দক্ষিণ চরনোয়াবাদ হাওলাদার মার্কেটের ব্যবাসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, কামরুজ্জামান মজনু করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরদিন সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে এক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে ওই মার্কেটে তার ঔষধের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসেন। এ সময় তিনি ওই এলাকার পার্শ্ববর্তী এক ব্যবসয়ীর পাওনা টাকা পরিশোধ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা লাল মিয়া জানান, করোনা আক্তান্ত হওয়ায় মজনুকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে নিষেধ করলে তিনি তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। কামরুজ্জামান মজনুর দাবি তিনি করোনা আক্রান্ত নন। তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হয়েছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, তিনি ৯ মে পর্যন্ত ওই এলাকায় তার ওষুধের দোকানে নিয়মিত বসতেন। রোগীদের কাছে ঔষধ বিক্রি করতেন। এসব কারণে ওই এলাকার মানুষ এখন চরম আঙ্কে রয়েছে। তারা বলছে, করোনা আক্রন্ত হওয়ার পরও তিনি ২০ থেকে ২৫ জনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাত করেছেন। এখন তারাও যদি করোনা আক্রান্ত হয় তাহলে এর দায় মজনুকেই নিতে হবে।
ভোলার সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, লকডাউনের নির্দেশনা না মেনে ঘুরে বেড়ানোর ব্যাপারে কামরুজ্জামান মজনুকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি অস্বীকার করেছে। তবে তিনি যদি এলাকায় ঘুরে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, তার বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। এখন তিনি যদি লক ডাউনের শর্ত ভঙ্গ করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান তা হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডিবিসি নিউজ
বার্তাবাজার/কে.জে.পি