করোনা মোকাবেলায় নব-জাগ্রত ফাউন্ডেশনের নানান কর্মসূচি

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্কিত গোটা বিশ্ব। এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে আড়াই লাখ। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে এর প্রাদূর্ভাব দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৫০ জন, যেখানে আক্রান্ত সাড়ে ১৬ হাজার। মহামারী করোনাভাইরাস থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায়ের খোঁজ যেন মিলছেই না। দিনদিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে ভাইরাসটি।

এদিকে লকডাউনের ফাঁদে পুরো দেশ। ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে চলেছে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন। এদেশের প্রায় প্রতিটি জনপদে আজ অসহায় মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত, গরীব মানুষেরা কাজের অভাবে, মজুরির অভাবে ঘরে বসে না খেয়ে আছে। লকডাউনে যখন একমুঠো খাবারের জন্য হাহাকার চলছে ঠিক তখন শুরু হয়েছে সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান। এমস্থাবস্থায় নিম্নশ্রেণীর খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য এ যেন আকাশ ভেঙে পড়ার অবস্থা।

একই অবস্থা ঠাকুরগাঁওয়ে। ১২ এপ্রিল বিকেলে জেলায় প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্তের তথ্য আইইডিসিআরের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহফুজার রহমান। ওইদিন সন্ধ্যায় সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবিলা ও জরুরি সুরক্ষার প্রয়োজনে ঠাকুরগাঁও জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করে এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন জেলা প্রশাসক কেএম কামরুজ্জামান সেলিম।

উত্তরের এই ছোট্ট জনপদের খেটে খাওয়া মানুষদের পাশে এগিয়ে এসেছে স্থানীয় অনেক সংগঠনই। সরকারি চেষ্টার সাথে ঠাকুরগাঁও এর মতো ছোট্ট জনপদে এই মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে, এসব মানুষদের মুখে সামান্য হাসি ফোটাতে মাঠে স্ব-উদ্যোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের সেচ্ছাসেবী সংগঠন নব-জাগ্রত ফাউন্ডেশন।

বাংলাদেশে করোনার প্রাদূর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকেই ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষদের মাঝে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে কাজ শুরু করে সেচ্ছাসেবী সংগঠন নব-জাগ্রত ফাউন্ডেশন। করোনা প্রতিরোধে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বপ্রথম মাইকিং করে নব-জাগ্রত ফাউন্ডেশন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য জীবাণুনাশক স্প্রে, জনসচেতনতামূলক লিফলেট আর সাবান বিতরণ করে তারা। দুস্থ এবং অসহায় পরিবারের জন্য ফ্রিতে ঔষধ এবং মাস্ক বিতরণ করে। এছাড়াও নিয়মিতভাবে দুস্থ ও অসহায় ব্যাক্তিদের খাদ্য বিতরণ করে চলেছে নব-জাগ্রত ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।

ছবি : বার্তা বাজার

গত (৬ এপ্রিল) সোমবার থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম এক ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করেন ‘সময়ের দাবি’। এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ বাড়ি বাড়ি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। ‘সময়ের দাবি’র হটলাইন ২টি নাম্বারে কল করে ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন পৌরসভার সাধারণ মানুষ।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের ‘সময়ের দাবি’র মতোই ত্রাণসামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে নব-জাগ্রত ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। তবে তারা হটলাইন নাম্বারের ব্যবস্থা রাখেনি, নিজেরাই দিনরাত এক করে ঘুরে ঘুরে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী নয় বরং নব-জাগ্রত উপহারসামগ্রী পৌছে দিচ্ছে তারা। তাদের উপহারসামগ্রীতে থাকছে চাল, ডাল, আলু, কুমড়া, সাবান ও জনসচেতনতামূলক লিফলেট।

সেচ্ছাসেবী সংগঠন নব-জাগ্রত ফাউন্ডেশনের সদস্যরা বলেন, মহামারী করোনাভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে হলে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। জনসচেতনতামূলক মাইকিং, লিফলেট, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য জীবাণুনাশক স্প্রে, সাবান, দুস্থ এবং অসহায় পরিবারের জন্য ফ্রিতে ঔষধ এবং মাস্ক বিতরণ, নিয়মিতভাবে দুস্থ ও অসহায় মানুষ যারা করোনার কর্ম হারিয়েছে খুঁজে খুঁজে এমন ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের মাঝে খাদ্য বিতরণ করে চলেছি আমরা। মহামারী করোনাভাইরাস সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া অব্দি এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর