দামুড়হুদায় চলছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের মহোৎসব

করোনা ভাইরাসকে ভয় না পেয়ে সর্তক হয়ে বোরো ধান কাটার মহোৎসব চলছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার মাঠে মাঠে। ধানের সাথে বিচালীকে দেওয়া হচ্ছে আলাদা গুরুত্ব। চলমান করোনা দূর্যোগে বিচালীর দাম ইতিমধ্যে চড়া হয়েছে। এজন্য ধানের সাথে বিচালীকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে চাষিরা। কোনো ভাবেই বিচালী নষ্ট করতে চাই না তাঁরা। বেশকিছু দিন যাবত দামুড়হুদার মাঠ জুড়ে লক্ষ করা যাচ্ছে সোনালী ধানের ক্ষেতগুলো বাতাসের সাথে দোল খাচ্ছে। কৃষকের মুখে আছে হাসির ছাপ।

এরই মাঝে প্রাকৃতিক দূর্যোগের দেখা, মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হাওয়া বইছে । কৃষকের সোনার ফসল কি ঘরে তুলতে পারবে কৃষক এ নিয়ে কৃষকরা অনেকটাই দুশ্চিন্তায়। হয়তো দিন দশেকের মতো সময় পেলেই কৃষকের বহু কষ্টে ফলানো সোনার ফসল ঘরে তুলতে পারবে তাঁরা। চলতি বছরে ধানের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় চাষিরা বেশ খুশি। বোরো আবাদে বেশ খরচ,গত কয়েক বছর ভালো দাম না পাওয়ায় চাষিরা অন্য আবাদে ঝুকে পড়েছে। এ মৌসুমে যে সকল চাষিরা বোরো আবাদ করেছে তারা ভালো ফলন ও ভালো দাম পাবে বলে আশা করছে। সেই সাথে এ মৌসুমে বিচালীরও বেশ দাম বেশি হয়েছে।

দামুড়হুদা উপজেলা সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বোরো ধান বেশি চাষ হয়ে থাকে। আর যে সমস্ত চাষিরা গভীর নলকুপের মাধ্যমে বোরো আবাদ করে তাদের উৎপাদন খরচও কম হয় । আর যে চাষিরা শ্যালোমেশিনে বোরা আবাদ করে তাদের উৎপাদন খরচ একটু বেশি হয়।

দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ালগাছি ইউনিয়নে ১১টি বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকুপ রয়েছে। যে গুলো সমিতির মাধ্যমে পরিচালিত। সমিতি কৃষকদের কাছ থেকে বিঘা প্রতি সেচ খরচ বাবদ ২২’শ টাকা করে নিয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে কুড়ালগাছি এলাকার মাঠে ব্যাপক বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। অনেক হাসি মুখে চাষিরা বোরো ধান কাটা শুরু করেছে কৃষকরা। চলতি মৌসুমে দামুড়হুদা উপজেলায় ৮হাজার ৯৪০ হে. জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো ধান আবাদ হয়েছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে চাষিরা ভালো ফলন পাবে। বিঘা প্রতি বোরো ধানের বিচালী বিক্রি হয় ৫ থেকে ৬হাজার টাকার।
দামুড়হুদার হাউলি গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান খলিল বলেন,তিনি চলতি মৌসুমে ৫বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছে। ভালো ফলন ও ন্যায্য মূল্য পাবে বলে আশা করছেন।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান বলেন,এ মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধানের ব্যাপক ফলন হবে। চাষিদের ব্যাপক ফলন পেতে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সার্বক্ষনিক বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়েছে। এছাড়াও চাষিরা যাতে ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারে সে লক্ষে কাজ করে চলেছে বাংলাদেশ সরকার। চাষিদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ২৬টাকা কেজি ধরে খুব শীঘ্রই ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হবে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে চলতি মৌসুমে দামুড়হুদা উপজেলায় ১হাজার ৭১মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করবে।

তিনি আরো বলেন,দামুড়হুদা উপজেলায় ইতিমধ্যে সরকারি ৫০% প্রণোদনায় প্রাপ্ত তিনটি কম্বাইন হারভেস্টার ও ১টি রিপার মেশিন দারা ধান কাটা মাড়া শুরু হয়েছে। আগামী দশ দিন আবহাওয়া ভালো থাকলে উপজেলার মাঠের সমস্ত ধান কাটা ও মাড়া শেষ হবে। আর দামুড়হুদা উপজেলায় ধান কাটার কোনো লেবার সংকট নাই । প্রয়োজনে অন্য কোনো জায়গায় লেবার লাগলে সরবরাহ করা হবে।

বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর