প্রাণঘাতী করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সারাদেশে দুস্থ ও হতদরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলেছে। তবে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে রয়েছে নানা সমস্যা। দুস্থ মানুষের সংখ্যা এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দের কম হওয়ায় বঞ্চিত হয়েছেন অনেকেই। আর এর দায়ভার এসে পড়ছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপর। ফলে এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিচ্ছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর মাঝে।

কুড়িগ্রামে গত কয়েকদিন আগে কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে ত্রাণের জন্য বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করেছিলো স্থানীয়রা। করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া কুড়িগ্রামের মানুষজন খাদ্য সংকট মধ্যে থাকার ফলে এসব প্রতিবাদ হচ্ছে বলেও জানান বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে অংশগ্রহনকারীরা।
এদিকে গত ২ মে থেকে কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষদের জন্য পর্যপ্ত খাদ্য জন্য বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ করছে রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন সংগঠন ‘গনকমিটি’। সংগঠনটির উদ্যোগে ফের মৌন প্রতিবাদ করেন তারা । মঙ্গলবার(১২ মে) জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় রায়গঞ্জ ইউনিয়নে দুপুর ২টার দিকে এ মৌন প্রতিবাদ করেন তারা। মৌন প্রতিবাদে স্থানীয় জনগনের পাশাপাশি অংশ নেন, রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির রায়গঞ্জ ইউনিয়ন শাখার সহসভাপতি আব্দুল মান্নান প্রধান,সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ, দপ্তর সম্পাদক এমদাদুল হক এবং প্রচার সম্পাদক আশরাফুল হক প্রমুখ।

মুঠোফোনে গণকমিটি রায়গঞ্জ শাখার সেক্রেটারি মামুনুর রশীদ মামুন বার্তা বাজার কে জানান,” খাদ্যের দাবীতে কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামার ঘটনা অহরহই ঘটছে।করোনার এমন ভয়াবহ সময়ে যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এমন কিছু যেন আর না ঘটে তাই এখানে আমরা সামাজিক দুরত্ব মেনে কুড়িগ্রামের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছি।আমাদের দাবি গুলো সরকারের বিবেচনা করা উচিৎ। আর আমাদের পেটে ক্ষিধে থাকলে আমরা আমাদের কথাগুলো বলতেই থাকবো।যতদিন সরকার দারিদ্রের হার অনুযায়ী খাদ্যের সঠিক বন্টন করতে সক্ষম না হয়।আমরা আমাদের অবস্থান থেকে আন্দোলনে থাকবো।”
উল্লেখ্য, গনকমিটির পক্ষ থেকে গত ২রা মে খাদ্য চেয়ে, ত্রান ও দূর্যোগ মন্ত্রনালয় বরাবর মন্ত্রীর কাছে তারা স্মারকলিপি পাঠান । এরপর থেকে জেলার বিভিন্ন জায়গায় সংগঠনটির নের্তৃবৃন্দ খাদ্যর জন্য বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে এভাবে প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন।
বার্তা বাজার/এম.সি