করোনা ভাইরাসের সংক্রমণকালে সরকারি নির্দেশনায় সারাদেশের ন্যয় লক্ষ্মীপুরে বন্ধ রয়েছে চার ‘শ কিন্ডার গার্টেন ও প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ থাকায় বন্ধ রয়েছে শিক্ষার্থীদের দেয়া মাসিক টিউশন ফি। ফলে গত দু মাস যাবত শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাসিক সম্মানীও বন্ধ। এতে অনেকটাই বেকার হয়ে পড়েছে প্রায় ছয় হাজার শিক্ষক-কর্মচারী। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার বিভিন্ন এমপিও ভুক্ত বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষকরাও। মানবেতর জীবনযাপন করা এসব শিক্ষকদের প্রনোদনার দাবি শিক্ষক সংগঠকদের।
শিক্ষকরা জানান, একি তো শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি না পাওয়ায় তাদের বেতন বন্ধ। অন্যদিকে সংক্রমন এড়াতে শাররীক দুরত্ব নিশ্চিত করতে গিয়ে প্রাইভেট টিউশনিও বন্ধ এতে দুই দিক থেকে বঞ্চিত এসব শিক্ষকরা। সামনে কতদিন বন্ধ থাকে এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক রাজশাহী বিভাগের সরকারী র্কমর্কতাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে বলেছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে প্রয়োজনে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল কলেজ বন্ধ থাকবে।
এমন হলে প্রায় ৭ মাস পরিবার পরিজন নিয়ে কি করবেন। এমন চিন্তায় হতাশ ওইসব শিক্ষকরা। অনেকের নেই বাড়ী কোন আয়ের পথ। শিক্ষাকতা দিয়ে সংসার পরিচালনা করছেনা তারা। এ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন শিক্ষকরা।
কেউ আছেন শহরে বাসা ভাড়া করে থাকেন। একটি স্কুলে শিক্ষকতা আর ৩টি টিউশনি করে চলে তাদের সংসার। এখন স্কুল বন্ধ টিউশনিও বন্ধ। যা জমানো টাকা ছিলো তা দিয়ে চলছে কিছুদিন। সামনে কবে স্কুল খুলবে তার কোন ঠিক নেই। এমন পরিস্থিতিতে বাসা ভাড়া কিংবা সংসার কিভাবে চলবে তা জানেনা তারা। বাসা ভাড়া ছেড়ে দিলে থাকবো কোথায়, আর খাবে কি?
শিক্ষকদের দাব, সরকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরকারী নির্দেশে তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বেতন পাচ্ছে। অথচ সরকারী নির্দেশে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ রেখে কোন বেতন পাচ্ছেনা। এমতাবস্থায় সরকারী প্রনোদনা দাবী তাদের।
বার্তা বাজার/এম.সি