টেকনাফের কচুবনিয়ায় ধর্মীয় লেবাসে ইয়াবা সিন্ডিকেট বেপরোয়া

কক্সবাজার জেলার অপরাধ জগতের আরেক স্বর্গ রাজ্য টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া। সাগরতীরবর্তী এই এলাকার ডজন খানেক শীর্ষ মাদক কারবারী ও কুখ্যাত ডাকাত সর্দার নজির বন্দুক যুদ্ধে নিহত হলেও মৌলভী কবির আহমদ, মৌলভী ফেরদৌস ও নজির ডাকাতের সহযোগী খ্যাত সেলিমসহ অর্ধডজন মাদক কারবারী মিলে ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে ইয়াবা ও মানব পাচার চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর প্রকাশ্যে প্রতিবাদের শক্তি কেড়ে নিয়েছে এইসব অপরাধীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া এলাকার আব্দুল হকের ছেলে মৌলভী কবির আহমদ উরফে বয়াম মলই একজন অপরাধ জগতের চিহ্নিত খল নায়ক। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা, আদম পাচার ও হত্যাসহ অন্তত তিনটি মামলার তথ্য জানাগেছে। তার রয়েছে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন ও সাবরাং ইউনিয়ন কেন্দ্রীক শক্তিশালী ইয়াবা ও আদম পাচার সিন্ডিকেট।

তার সিন্ডেকেটের অপর দুই সদস্য আত্মসমর্পণ করে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। বিভিন্ন সময় বিদেশগামীদের মাধ্যমে বিদেশে উপহার পাঠানোর নামে আঁচারের বয়াম ও মাংসের ভিতরে করে কৌশলে ইয়াবা পাচারের সময় সন্দেহ হলে, এসব উপহারের পুটলা খুলে দেখলে তার মধ্যে ইয়াবার অস্থিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এর পর থেকেই সে এলাকায় বয়াম মলই বলে পরিচিত। নিজেকে ইয়াবা ও আদম পাচারকারী হিসেবে আড়াল করতে গবাদীপশু ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বেড়ায়।

স্থানীয় সূত্র মতে, মৌলভী কবির কচুবনিয়া তাহফিমুল উলুম হিফজ খানাকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলেছে ইয়াবা মজুদের নিরাপদ ঘাটি। তার ইয়াবা কারবার নির্ভিগ্ন করতে অন্যতম সহযোগী হিসেবে রয়েছে কচুবনিয়া এলাকার আব্দু শুক্কুরের ছেলে মৌলভী ফেরদৌস নামে উক্ত মাদ্রাসার এক শিক্ষক।

বিগত সময়ে এই মৌলভী ফেরদৌস ও একই এলাকার রূপালী হারুন মিলে মৌলভী কবিরের ইয়াবা বহন কালে কক্সবাজার ঝিলংজা থেকে আটক হয়েছিলো। স্থানীয় ভাবে চাউর রয়েছে মৌলভী কবিরের ইয়াবার চালান মজুদেএ জন্য ফেরদৌস নিজের চাকুরী স্থল হেফজ খানা ও তার আশেপাশের কবরস্থানকে ব্যবহার করে থাকে। এই সিন্ডিকেট বিভিন্ন মাদ্রাসার অসহায়, গরীব ছাত্রদের টাকার লোভ দেখিয়ে ইয়াবা পাচার কাজে ব্যবহার করে থাকে বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী।

সূত্র আরো জানায়, সাগর থেকে এই সিন্ডিকেটের ইয়াবা খালাসের নেতৃত্বে রয়েছে কচুবনিয়া এলাকার আব্দুল মাজেদের ছেলে মাদকের তালিকা ভূক্ত সেলিম। বন্দুক যুদ্ধে নিহত নজির ডাকাতের অন্যতন ঘনিষ্ট সহচর এই সেলিম। তার বিরুদ্ধে এলাকায় গেলো বছর এক রোহিঙ্গা নারীকে ধর্ষনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। সেলিমের ক্ষমতার দাপটে আতংকে থাকে এলাবাসী। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই সেলিম নিয়ন্ত্রিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে চলে অত্যাচার নির্যাতন।

এসব বিষয়ে মৌলভী কবির ও সেলিমের কাছে জানতে চাইলে নিজেদেরকে গবাদী পশু ব্যবসায়ি হিসেবে পরিচয় দিয়ে বার্তা বাজারকে জানান, আমার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে সেটা সঠিক। এসব অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ষড়যন্ত্র। তবে ষড়যন্ত্রের কারন কি সে বিষয়ে কোন উত্তর দিতে পারেনি তারা। এদিকে মৌলভী ফেরদৌসের মুটোফোনে কল দেয়া হলে তিনি নিজেকে ফেরদৌস নয় বলে কথা বলতে রাজী হননি।

টেকনাফ থানার ওসি (তদন্ত) এবি এম এস দোহা জানান, অভিযানের মাঝেও কিছু ইয়াবা কারবারী কৌশলে অধরা রয়েগেছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে একাধিক পুলিশের টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অপরাধীদের খুব শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে। মাদক কারবারীদের কোন ভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর