করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রবিবার (১ মে) পঞ্চগড়ের বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানপাট খুলেছে। লকডাউন অব্যাহত থাকলেও জেলার মার্কেট ও হাটবাজারগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। তবে দুপুরের পর লোকজনের সমাগম কিছুটা কমেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে এবং সামাজিক দুরত্ব মেনে ক্রয় বিক্রয়ের সরকারি সিদ্ধান্ত থাকলেও হাটবাজার ও মার্কেটগুলোতে ক্রেতা বিক্রেতা কেউই মানছেন না।
কাপড়ের দোকান, জুতার দোকান, দর্জির দোকান থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটায় প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। সকালে লোকজনের উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভীড় বাড়তে থাকে। সামাজিক দুরত্ব কিংবা শারিরীক দুরত্ব বজায় রেখে মানুষজনকে বাজার করার সরকারী নির্দেশনা থাকলেও কোথাও ছিলনা সামাজিক কিংবা শারিরীক দুরত্বের বালাই নেই। মানুষজনকে গাদি-গাদি করে শপিং করতে দেখা গেছে। অনেকের মুখেও ছিলনা কোন মাস্ক। তবে দুপুরের পর লোকজন কমতে শুরু করে। ঈদকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের এমন স্বাভাবিক চলাফেরা দেখে বিব্রত বোধ করছেন সচেতন মহলের নাগরিকেরা। তাদের মতে করোনা সংক্রমন সময়ে মার্কেট খোলা যেন আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত।
জেলার সদর উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়ন হতে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যাক্তি জানান, আসলে করোনা পরিস্থিতিতে যদিও ঈদের শপিং করা ঠিক না। কিন্তু কি আর করার পরিবারের সকলের মুখে হাসি ফোঁটাতে বাধ্য হয়ে কেনাকাটা করতে এসেছি।
জেলার সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়ন থেকে পঞ্চগড় বাজারে আসা এক নারী বলেন, আমি অনেকদিন পর পঞ্চগড় বাজারে আসলাম। শহরে যেভাবে মানুষ ঘোরাঘুরি করছে তাতে ঈদের কেনাকাটা করতে আমার ভয় করছে। কিন্তু ছেলে-মেয়েদের জন্য ঈদের কিছু কেনাকাটা করার প্রয়োজন।
মেসার্স নাজিম ক্লথ ষ্টোরের মালিক নাজিমউদ্দিন জানান, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার কথা বললেও লোকজন তা মানছেন না। তবে হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজার জাতীয় কিছু দেখা যায়নি কোন দোকানে।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, সরকারের সিদ্ধান্তে মার্কেট ও দোকানপাট খুলেছে। করোনায় আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। আমরা ব্যবসায়ীসহ লোকজনদের বিভিন্নভাবে সামাজিক দুরত্ব মেনে চলার জন্য বলেছি। সকলকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
বার্তা বাজার/এম.সি