ভূতোরে বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার: দেখার কেউ নেই

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নান্দাইল জোনাল অফিসে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনগড়া ভূতোরে বিদ্যুত বিল তৈরী করায় গ্রাহকরা প্রায়ই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এসমস্ত কর্মকান্ড দেখার মত যেন কেউ নেই। এ যেন এক অন্যরকম প্রতারণা। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুত বিল যেন গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে।

গ্রাহকরা অভিযোগ করেন যে, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং না নিয়ে অফিসে বসে মনগড়া (ইচ্ছামত) বিল তৈরী করছে। আবার বিদ্যুৎ বিলের কাগজ ঠিকই বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনেক গ্রাহকগণ বিদ্যুৎ বিল বিষয়ে অজ্ঞ থাকায় মিটার রিডিং না মিলিয়েই বিদ্যুৎ বিল দিয়ে দিচ্ছে। এধরণের অনেক অভিযোগ রয়েছে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাহকদের।

জানা যায়, উপজেলার নান্দাইল ইউনিয়নের দাতারাটিয়া বাজারে বানিজ্যিক মিটার সহ একই এলাকার আবাসিক দেড় শতাধিক মিটারের মনগড়া বিল তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বিলে ৩৫/৪০/৫০/৬০ ইউনিট করে বেশি যোগ করে বিল তৈরি করা হয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগে জানাযায়, পৌরসভার এস এম সরকার নামে একটি বিলে মার্চের ১২ তারিখ থেকে এপ্রিলের ১২ তারিখ পর্যন্ত বিল করা হয়েছে ১১৫ ইউনিটের।

অথচ আজ ৯ মে পর্যন্ত এই মিটারের বিল হওয়ার কথা ১২৩ ইউনিটের। দাতারাটিয়া বাজারের শাহাবুদ্দিনের বাণিজ্যিক মিটারের অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে ৫৭ ইউনিটের, টাকার অঙ্কে অতিরিক্ত দাম এসেছে ৫৮৭ টাকা। একই বাজারের হাবিবুল্লাহর বাণিজ্যিক মিটারের অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে ৩২ ইউনিটের টাকার অঙ্কে ৩২৯ টাকা বেশি।

এব্যাপারে শাহাবুদ্দিন, হাবিবুল্লাহ ও সিনিয়র সাংবাদিক ইলিয়াস উদ্দিন ফকির রঞ্জু জানান, লকডাউনের কারণে ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ, কোন কাজ কর্ম করা যাচ্ছে না। আর এতে করে বিদ্যুৎতের অতিরিক্ত বিল করা সত্যিই একটি অমানবিক ও গুরুতর অপরাধ।

এছাড়াও একই এলাকার আহাছানউল্লা, এনামুল হক, জিয়া উদ্দিন, আবুল কাসেম, আঃ সালাম, ফারুক আহমেদ সহ বাণিজ্যিক, আবাসিক দেড় শতাদিক মিটারের মনগড়া বিল পাঠানো হয়েছে।

এব্যাপারে নান্দাইল বিদ্যুৎ অফিসের জোনাল ম্যানেজার উত্তম কুমার সাহা এর সত্যতা স্বীকার করে জানান, সারা নান্দাইলে প্রায় ১ লাখ গ্রাহক রয়েছে। আমরা করোনা পরিস্থিতির জন্য বাড়িতে পাঠিয়ে বিল করতে পারিনাই। অনুমান নির্ভর বিল করা হয়েছে। সামনের মাসে সমন্বয় করা হবে। এরপরও কেউ যদি মনে করে সংশোধন করে নেবে তাহলে অফিসে আসলে আমরা তা করে দেব।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর