করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দিক নির্দেশনা প্রদান করছেন, যার ফলে এখনো বাংলাদেশকে সংক্রমণের ৪র্থ ধাপের মারাত্নক ঝুকি থেকে বের করে আনার একটা সুযোগ আছে। এই দূর্যোগের মধ্যেও ধান কেটে ঘরে তোলার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তটি খুবই সময়োপযোগী হয়েছে, একদিকে কৃষকের সব ধান সময় মত ঘরে উঠে যাবে, অন্যদিকে এই দূর্যোগেও বাংলাদেশে খাদ্যের অভাব হবে না। স্বাস্থ্য বিভাগ সহ বিভিন্ন বিভাগ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করায় বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে।
কিন্তু জনগণের অসচেতনতা, গার্মেন্টস, ইফতার বাজার, শপিংমল ও সব ধরনের দোকান খুলে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সংগঠনের অজুহাত সৃষ্টি করায় সরকারের কার্যকরী উদ্যোগগুলি বাস্তবায়নে ব্যহত হচ্ছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জনগন ত্যাগ স্বীকার করে ৪০ দিন ঘরে থাকায় যে সুফলটা পাওয়া যাচ্ছিলো সেটা এখন কাজে লাগানো যাচ্ছে না। দেশ আজ সংক্রমণের ঝুকির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি সংক্রমণের ৪র্থ ধাপের মারাত্নক ঝুকি থেকে বাঁচতে চাই তাহলে নিম্নের প্রস্তাবনাগুলো আগামী দশ থেকে পনের দিনের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশকে কিছু দিনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ থেকে মুক্ত করার সম্ভাবনা এখনো আছে।
বাংলাদেশে ৯ মে পর্যন্ত অর্থাৎ ৬১ দিনে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা- ১৩,৭৭০, নতুন আক্রান্ত – ৬৩৬, মোট মৃত্যু- ২১৪ এবং ৬১ দিনে বাংলাদেশে আঠারো কোটি মানুষের মধ্যে ১,১৬,৯১৯ টি টেষ্ট করা হয়েছে। পর্যাপ্ত টেষ্ট করে রোগীর সঠিক সংখ্যা জেনে আক্রান্তদের দ্রুত পৃথক করা সম্ভব।
৯ মে পর্যন্ত ভিয়েতনামে মোট আক্রান্ত – ২৮৮, নতুন আক্রান্ত- ০, মোট মৃত্যু- ০, তাইওয়ানে মোট আক্রান্ত – ৪৪০, নতুন আক্রান্ত- ০, মোট মৃত্যু- ৬, মিয়ানমারে মোট আক্রান্ত -১৭৮, নতুন আক্রান্ত- ১, মোট মৃত্যু- ৬, হংকংয়ে মোট আক্রান্ত – ১০৪৪, নতুন আক্রান্ত- ০, মোট মৃত্যু- ৪, শ্রীলঙ্কায় মোট আক্রান্ত- ৮৪৭, নতুন আক্রান্ত – ১২, মোট মৃত্যু- ৯, দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট আক্রান্ত – ১০,৮৪০, নতুন আক্রান্ত – ১৮, মোট মৃত্যু- ২৫৬, মোট মৃত্যু- ১০৮, থাইল্যান্ডে মোট আক্রান্ত – ৩০০৪, নতুন আক্রান্ত- ৪, মোট মৃত্যু- ৫৬, নিউজিল্যান্ডে মোট আক্রান্ত – ১৪৯২, নতুন আক্রান্ত- ২, মোট মৃত্যু- ২১, নরওয়ে মোট আক্রান্ত- ৮০৭০, নতুন আক্রান্ত- ০, মোট মৃত্যু- ২১৮, কিউবায় মোট আক্রান্ত – ১৭৫৪, নতুন আক্রান্ত – ১৩, মোট মৃত্যু- ৭৪, নেপালে মোট আক্রান্ত – ১০৯, নতুন আক্রান্ত-৭, মোট মৃত্যু- ০, ভুটানে মোট আক্রান্ত – ৭, নতুন আক্রান্ত- ০, মোট মৃত্যু- ০, এসকল দেশের মধ্যে ৯ মে পর্যন্ত নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কিছু দেশে- ০, কিছু দেশে ১ থেকে ১৮ এর মধ্যে এবং এসকল দেশ লক্ষ লক্ষ টেষ্ট করেছে। এই দেশ গুলির ৯ মে পর্যন্ত টেষ্টের সংখ্যা, রোগীর সংখ্যা, মৃত্যুর সংখ্যা ও প্রতিরোধকমূলক ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে আমরা আশা করি সফল হবো।
চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ যে সকল দেশ করোনাভাইরাস ভাল ভাবে প্রতিরোধ করেছে সে সকল দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে উন্নত চিকিৎসা প্রদান ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন। প্রতিদিন কমপক্ষে দশ হাজার সংখ্যক টেষ্ট করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত সনাক্ত করা, উপসর্গ থাকলেই টেষ্ট করা, টেষ্ট করাতে ভোগান্তি কমানো, টেষ্ট সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি, মোবাইল ফোন ট্রেকিং এর মাধ্যমে কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং বের করা, কোভিড হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা, লকডাউন/ বাসায় থাকা শতভাগ কার্যকরী করা, সক্ষম ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে ও অক্ষমদের বিনামূল্যে সকলের ঘরে খাবার পৌছে দেওয়া এবং বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করতে পারলে মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে আশা করি।
১। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় দূর্যোগ সংক্রান্ত কাউন্সিল জরুরী ভিত্তিতে গঠন।
২। দেশে এ পর্যন্ত যাদের করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে তাদের পরিবার ও আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা সকল ব্যক্তিকে ও যাদের নূন্যতম করোনার উপসর্গ আছে এবং করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরন করেছে তাদের আগামী দশ থেকে পনের দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ জনবল নিয়োগ করে নূন্যতম প্রতিদিন দশ হাজার করোনা টেষ্ট করতে হবে এবং যাদের টেষ্ট পজিটিভ হবে তাদেরকে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নিতে হবে। হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে চাইলে বাসায় সে রকম ব্যবস্থা আছে কিনা সেটা আগে নিশ্চিত হতে হবে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ অথবা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত নিবিড় পর্যবেক্ষণে অথবা মোবাইল ফোন ট্রেকিং এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সকল জেলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে করোনা টেষ্টের সেন্টার করতে হবে। দক্ষিন কোরিয়ার মত পিপিই ছাড়া করোনা টেষ্ট বুথ বানিয়ে স্যাম্পল সংগ্রহ করার ব্যবস্থা গ্রহন। যাদের স্যাম্পল সংগ্রহের অভিজ্ঞতা নেই তাদেরকে দ্রুত অনলাইন /ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।
৩। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এলাকা এবং জেলা গুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউন করা হলেও জনগনের অসচেতনতা ও গার্মেন্টস, ইফতার বাজার, শপিংমল খোলার জন্য অনেকেই লকডাউন সঠিকভাবে মানছে না এবং শারীরিক দূরত্ব মেনে চলছে না, লকডাউন শতভাগ কার্যকরী করতে হলে এখনই আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ঘরে থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে। আরেকটি বার চেষ্টা করে সবাইকে ১০থেকে ১৫ দিন ঘরে রাখতে পারলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কাউকে প্রবেশ করতে না দেয়া। করোনার সংক্রমণের সময় খাদ্য ঘাটতি পূরনের জন্য ধান কেটে সংগ্রহে রাখা খুবই জরুরী।
ধান কাটার জন্য এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যে সকল শ্রমিক যাবে তাদেরকে প্রশাসনের সহায়তায় শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে নির্দিষ্ট যানবাহনে পাঠাতে হবে এবং প্রত্যেকের করোনা টেষ্ট করে কাজে নামাতে হবে। গার্মেন্টস এবং শপিংমল এখনই চালু করার অনুমতি না দিলে ভালো হতো, এটা চালু করলে সংক্রমণের হার বেরে যেতে পারে। যদি একান্তই চালু করতে হয় তাহলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা প্রনয়ণ করে সীমিত সংখ্যক গার্মেন্টস চালু করা যেতে পারে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে নিজস্ব যানবাহনে কর্মস্থলে আসা যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং গার্মেন্টসে যোগদানের পূর্বেই সকল কর্মীর করোনা টেষ্ট করে স্বাস্থ্য বিধি মেনে কাজে নিয়োজিত করতে হবে। প্রশাসনের মাধ্যমে গার্মেন্টস গুলি নিয়মিত নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। ইফতার বাজার ও শপিংমলে শত শত মানুষ ভির করবে। গার্মেন্টস, ইফতার বাজার, শপিংমল ও মার্কেট করোনা সংক্রমণের জন্য একটি উপযুক্ত ক্ষেত্র।
বিশেষজ্ঞদের নিয়ে দুইটি টীম গঠন করে একটি টীমকে শুধু প্রতিরোধক মূলক কাজে সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন এবং অন্য টীমকে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার কাজে হাসপাতাল গুলোতে দক্ষ জনবল সহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করনের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
৪। যাদের সক্ষমতা আছে শুধু তাদেরকে অর্থের বিনিময়ে এবং সকল গরীব ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ঘরে ঘরে বিনামূল্যে খাবার পৌছে দিতে হবে। ঘরে খাবার না থাকলে শত চেষ্টা করলেও মানুষ ক্ষুধার জ্বালায় ঘর থেকে বের হবে। উম্মুক্ত স্থানে খাদ্য বিতরণ করলে জনসমাগমের কারনে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।
৫। বাংলাদেশে প্রচুর সংখ্যক স্কুল-কলেজ, এক্সপ্রেস ট্রেন, ষ্টীমার, উন্নত মানের হোটেল, আশুলিয়ার ইজতেমা মাঠ, স্টেডিয়াম, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের বেড বর্তমানে অব্যবহিত আছে। এগুলিকে অস্থায়ী করোনা হাসপাতাল অথবা আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করার ব্যবস্থা গ্রহন। বাসায় রেখে আইসোলেশন/কোয়ারেন্টাইন শতভাগ কার্যকর করা সম্ভব না, কারন সকলের বাসায় পৃথক একাধিক টয়লেট ও পর্যাপ্ত রুম নাই।
৬। সমগ্র দেশে বিশেষ করে সংক্রমিত এলাকায় ফায়ার সার্ভিস, ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রতিদিন রাস্তায় জীবানু নাশক স্প্রে করতে হবে। সকল যানবাহন বাহির থেকে এসে বাসায়/অফিসে প্রবেশের পূর্বেই গেটের বাহিরে চাকা সহ যানবাহন ব্যক্তিগত উদ্যোগে জীবানু নাশক দিয়ে স্প্রে করতে হবে এবং ঘরের বাহিরে যারা যাবেন সবাই বাসার মূল গেটের বাহিরে জুতা/ স্যান্ডেল স্প্রে করে জুতা ঘরের বাহিরে রাখতে হবে।
৭। যেসকল ব্যাক্তি বিদেশ থেকে বাংলাদেশে বিমান বন্দর, স্থল বন্দর, নৌ বন্দর, সমুদ্র বন্দর, রেলপথ দিয়ে প্রবেশ করবে ঐ সকল বন্দরেই তাদের সকলের করোনা টেষ্ট করতে হবে । যাদের করোনা টেষ্ট পজিটিভ হবে তাদের সকলকে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে নিতে হবে এবং করোনা রোগীর সংস্পর্শে যারা ছিল তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নিতে হবে। শুধু মাত্র শরীরের তাপমাত্রা মেপে করোনা ভাইরাস সনাক্ত করা যায় না। বিমানবন্দর সহ সকল বন্দরে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রার মাধ্যমে স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। তাদের সকলের স্যাম্পল সংগ্রহ করা অথবা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা প্রয়োজন।
৮। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সকল তথ্য ডাটাবেইজ তৈরী করে তাদের যাতায়াত মোবাইল ফোন ট্রেকিং এর মাধ্যমে কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং বের করে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত টেষ্ট করে আইসোলেশন করা। এ বিষয়ে আইসিটি মন্ত্রনালয় উদ্যোগ নিতে পারে। দক্ষিন কোরিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং এর মাধ্যমে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে।
৯। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নির্দেশিত ৩১ দফা কঠোর ভাবে পালনের ব্যবস্থা করন।
১০। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠে এবং আক্রান্তের সম্ভবনাও কম। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং করোনার ভাইরাসের প্রতিরোধক হিসাবে প্রতিটি মানুষকে আদা,দারচিনি, লবংগ, কালজিরা, গোল মরিচ, হলুদ, ও তুলসীপাতা জ্বাল দিয়ে চায়ের মতো সেবন, প্রতি বেলায় কুসুম গরম পানি সেবন ও গার্গেল করা এবং ভিটামিন সি অথবা ভিটামিন সি যুক্ত ফল দিনে দুই বার খাবার উপদেশ প্রদান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি প্রফেসর ডাঃ মোঃ শহিদুল্লাহ সিকদার ও তার চিকিৎসক কন্যা এবং মোঃ ফেরদৌস ও চৌধুরী ফারহানা দম্পতি দুজনেই ফার্মাসিস্ট এবং নাইজেরিয়ার গভর্নর সেয়ি মাকিন্দে সহ আক্রান্ত অনেকে এই ব্যবস্থা গ্রহন করে সুস্থ হয়েছেন। এ সকল উপাদান সরকারের মাধ্যমে সকলের ঘরে পৌছে দেওয়া।
১১। আগামী এক মাসের মধ্যে সকল সক্ষমতা সম্পন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ১০০০ (এক হাজার) আইসিইউ বেড ও সরকারের পক্ষ থেকে ১০০০(এক হাজার) আইসিইউ বেড ভেন্টিলেটর সহ প্রস্তুত করতে হবে। সল্প মুল্যে দ্রুত সময়ে মিনি ভেন্টিলেটর গুলি সংগ্রহ করতে হবে। করোনা ভাইরাসের জটিলতায় ১০- ১৫% রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট লাগে, আইসিইউ সাপোর্ট দেয়া গেলে বেশির ভাগ রোগীকে বাচানো যাবে।
১২। সকল মেডিকেল কলেজ, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য পৃথক বিভাগ খুলে চিকিৎসা প্রদান এবং করোনা রোগীদের হাসপাতালে যাতায়াতের জন্য পৃথক রাস্তা প্রনয়ণ ও প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখা। করোনায় আক্রান্ত শ্বাস কষ্টের রোগীদের সঠিক সময় অক্সিজেন দিতে পারলে জীবন বাচানো সম্ভব হবে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়ালাইসিস,গর্ভবতী মহিলা সহ জরুরী চিকিৎসার জন্য যারা হাসপাতালে যাবেন তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
১৩। পিপিই সহ সুরক্ষা সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমানে সংগ্রহে রাখতে হবে। নাহলে আমেরিকা ও ইতালির মত চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে পরতে হবে। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা প্রদান, শুন্য পদে, প্রকল্পে অথবা আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট নিয়োগ ও টেষ্টের জন্য নিয়োজিত করা, অবসর প্রাপ্ত চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের খণ্ডকালীন/চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য রিজার্ভ রাখা।
লেখা: ডাঃ মোঃ হাসান ইমাম
এমডি (মেডিসিন), নিউ দিল্লী, স্পেশাল ট্রেইনিং ইন টিএম (চীন, থাইল্যান্ড, কোরিয়া)
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ (এএমসি)
এস.পি. হাসপাতাল, ঢাকা।
বার্তা বাজার/এম.সি
* প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বার্তা বাজার-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বার্তা বাজার কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।