দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভাবকী ইউনিয়নের তৈমতশাহ পাড়ায় গত শুক্রবার মসজিদ কমিটি নিয়ে হাতাহাতির ঘটনায় ৭জনকে আটক করেছে খানসামা থানা পুলিশ। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ কামাল হোসেন।
মসজিদের কমিটি নিয়ে মসজিদের সরদার মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল ইসলাম শাহ এর সাথে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে মুসল্লিদের অন্য একটি পক্ষের সাথে। হাতাহাতির ঘটনায় সরদারের পক্ষের ৪জন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা যায়। ওই ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল ইসলাম শাহ রাতেই মামলা করলে তাৎক্ষণিক ৩ জনকে এবং আজ শনিবার ৪ জনকে গ্রেফতার করে খানসামা থানা পুলিশ।
তৈমতশাহ পাড়ার মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘মসজিদে একটি কমিটি গঠন করেছেন আমাদের মসজিদের সরদার হাজী খাইরুল ইসলাম শাহ। এর আগেও একটা কমিটি করা হয়েছিল কিন্তু কোন প্রকার রেজুলেশন করা হয়নি।
আমাদের দাবি ছিল নতুন যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেটার একটা রেজুলেশন করে দেয়া। আমরা সরদার সাহেবকে রেজুলেশনের বিষয়ে লিখিতভাবেও জানিয়েছিলাম। শুক্রবার সরদারের সাথে এসব নিয়ে কথা বলায় তিনি উত্তেজিত হয়ে উঠেন। এক পর্যায়ে আমাদেরকে মসজিদ থেকে বের করা দেয়া হয়। পরে সরদার ও সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বর্তমানে মসজিদে তালা ঝুঁলিয়ে দিয়েছেন সরদার। যাতে আমরা কেউ মসজিদে ঢুকতে না পারি।’
মসজিদ কমিটির সাবেক সভাপতি মো. হবিবর রহমান বলেন, ‘‘মসজিদে একে একে তিনটি কমিটি হলো। এত কমিটির কি দরকার। আমি যখন মসজিদ কমিটিতে ছিলাম তখন ব্যাংকে ২৫ হাজার টাকা ছিল। সেই টাকা মজনু আর আব্দুল্লাহ উত্তোলন করে। সেই টাকারও কোন হদিস নাই। মসজিদের যে জমি আছে সেই জমি সরদার সাহেবের বাবা দান করছে কিন্তু বর্তমান সরদার সাহেব (খাইরুল শাহ) সেই জমি দেয় না। মূলত এটা নিয়েই এত ঝামেলা।’’
মসজিদের পাশেই মাদ্রাসার জন্য জমি দান করেছেন মো. তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘মসজিদের সাথে আমরাও ৫ শতক জমি মাদ্রাসা করার জন্য দিয়েছি। মাদ্রাসার জন্য হাজী খাইরুল ইসলাম শাহ এর পিতা ৮ কাঠা জমি দান করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেই জমিতে হাজী খাইরুল বাড়ি বানিয়ে আছেন। মাদ্রারাসার জমির বিষয়ে কথা উঠলেই তিনি উত্তেজিত হয়ে উঠেন। পরবর্তীতে অন্য এক জায়গায় মাদ্রাসার নামে খাইরুল শাহ এর বাবা ৮ কাঠা জমি দেন। কিন্ত সেখানেও তিনি একটি স্কুল নির্মাণ করেছেন। মূলত এসব কারণেই মসজিদের সরদারি এবং মসজিদ কমিটি তাদের মত করে চালায়। কেউ কথা বললেই এসব বিষয় নিয়ে ঝগড়া লাগে।’’
তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল ইসলাম শাহ বলেন, ‘‘আমরা যে কমিটি করেছি সেটির পক্ষে সবাই ছিল। যারা অভিযোগ করেছেন শুধু তারাই আমার বিরোধীতা করছেন। উল্টো আমাকেই তারা মারার জন্য আসে। আমাকে ও আমার পক্ষের আরো কয়েকজনকে মারে। তারা এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছে। সবার কথার শেষে আমি বলেছি, মসজিদে আর কোন কমিটি থাকবে না। মসজিদটি এর আগে আমার দাদা তারপর আমার বাবা নিয়ন্ত্রন করেছেন, এখন আমি নিয়ন্ত্রন করব।’’
মসজিদের জমির বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল ইসলাম শাহ বলেন, ‘‘আমার বাবা মাদ্রাসার জন্য জমি দিয়েছিল। পরবর্তীতে ওই জমির বদলে অন্য এক জায়গায় জমি দেওয়া হয়। সেখানে মাদ্রাসার বদলে একটি স্কুল নির্মাণ করা হয়েছে।’’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ কামাল হোসেন বলেন, ‘‘মসজিদ কমিটি নিয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। সেই মামলায় আমরা ৭জনকে আটক করেছি।’’
বার্তা বাজার/এম.সি