মির্জাপুরের করোনার কারনে অলস সময় পার করছে মৃৎশিল্পীরা

করোনার কারণে ঘরে বসে অলস সময় পার করছে মির্জাপুর উপজেলার সকল মৃৎশিল্পীরা। করোনা কেড়ে নিয়েছে সকল প্রকার মানুষের মুখের গ্রাস। বাংলাদেশের মানুষ নানা প্রকারের কাজ করে তাদের জীবিকা অর্জন করে। কিন্তু বর্তমানে করোনা ভয়াবহ মহামারি রূপ নেয়ার কারনে সকল প্রকার মানুষ আজ বেকার হয়ে বসে আছে।

মৃৎশিল্পী মন্তোষ পাল হতাশ হয়ে বলেন, ৫ জনের সংসার আমার। মাটি দিয়ে খুব নিপুনভাবে হাঁড়ি পাতিল তৈরি করি, সেগুলো কাঁচা অবস্থায় রোদে শুকাতে হয় তারপর পুনে ( যে গুহায় হাঁড়ি পাতিল পোড়ানো হয় ) দিয়ে পুড়িয়ে হাঁড়ি পাতিল প্রস্তুত হলেই মাটির তৈরি জিনিস বেঁচার জন্য উপযুক্ত হয়।

১১ মাসই টুকটুাক করে এ সব হাঁড়ি পাতিল খেলনা তৈরি করি, কেবল মাত্র বৈশাখ মাস বাদ দিয়ে। বৈশাখ মাস আমাদের পালনি মাস এ মাসে আমরা মাটিতেও হাত দিব না। বৈশাখ মাসে অনেকগুলো মেলা গেল, মেলার মধ্যে হরেক রকমের খেলনা বানিয়েছিলাম আর সেগুলো মেলায় বিক্রী করতাম।

খেলনার মধ্যে রয়েছে নানা প্রকারের মাটির পুতুল, হাতি, ঘোরা, পাখি, ফুলের টব ইত্যাদি। করোনার কারনে হাটবাজার, জনসমাগম বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। কিন্তু এ বছর কোন খেলনাই বিক্রী করতে পারিনি কিন্তু তৈরি করেছিলাম ঠিকি। মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে এ সব তৈরি করেছিলাম এখন কিভাবে সেই টাকা শোধ করব আর কিভাবে সংসার চালাবো বুঝে উঠতে পারছিনা।

অন্যদিকে কুমার ধীরেণ পাল বলেন, আমি অশিক্ষিত মানুষ শিক্ষিত মানুষের ভাষা কম বুঝি, তাও সারাদিন টিভির সামনে বইসা থাকি আর ভগবানের কাছে পার্থনা করি কবে এই দুর্যোগ যাইবো, তা দেখি দিন দিন খালি বাড়ার খবর কয় টিভিতে। ধীরেণ পাল ফুলের টব, মাটির তৈরি চাইরা (যে পাত্রে গরুর খাবার দেয়া হয়) তৈরি করে জীবিকা অর্জন করেন।

এসব জিনিস তৈরি করে নানান দেশে পাঠানো হয় কিন্তু করোনার কারনে পরিবহন সংকট দেখা দেয়ায় মহাজনেরা এগুলো নিচ্ছে না ফলে দেখা দিয়েছে অভাব। ৮ জন সদস্যের অভাবের সংসার ধীরেণ পালের। মির্জাপুর উপজেলায় প্রায় ২হাজার থেকে ২৫০০ শত পরিবার রয়েছে মৃৎশিল্পীরা বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাই এখন কর্মহীন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, মাটির তৈরি ম্ৎৃশিল্প আমাদের বাঙালিয়ানার একটা অংশ, এ শিল্প যাতে হাড়িয়ে না যায় সে দিকে আমি লক্ষ রাখব। কর্মহীন কুেমারদের তালিকা করে তাদের সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর