করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে জেলখানাগুলোতে অতিরিক্ত চাপ কমাতে সরকারের সাধারণ ক্ষমার আওতায় ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগার হতে আরও ১৬ জন কয়েদিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিকালে লঘু সাজাপ্রাপ্ত ১৬ জন কয়েদিকে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ।
মুক্তি প্রাপ্তরা হলেন- খাদেমুল ইসলাম (৩৫), মোফাজ্জল হোসেন (৪৫), আল মামুন (২৩), রবিউল ইসলাম (২৮), সুমন ইসলাম (২০), ফজলুল করিম (২৮), শহিদ আলী (২৮), দিলদার আলী (৩৮), জয় চন্দ্র (৪০), সৌমিক আহম্মেদ (২৩), সোহেল রানা (২৭), মোমিনুল ইসলাম (২০), আরিফুল ইসলাম (২৮), ওমর ফারুক (২৮), মোফাজ্জল হোসেন (৪৩) ও সামুয়েল রানা (৩৭)।
ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারের জেল সুপার জাবেদ মেহেদী জানান, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ (কারা-২) শাখার ২৯ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১(১) ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার কর্তৃক আমরা বিভিন্ন মেয়াদে লঘু সাজাপ্রাপ্তদের তালিকা করে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বেশ কিছু কয়েদী মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগার থেকে আজ আরও ১৬ জনের মুক্তি দেওয়া হল।
তিনি বলেন, মুক্তির তালিকার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২২ জনের মুক্তির আদেশ আসে। এর মধ্যে গত কয়েকদিন আগে ৩ জনকে মুক্তি দেয়া হয় এবং আজ শুক্রবার ১৬ জনকে মুক্তি দেয়া হয়। বাকী ৩ জন অর্থদন্ড দিলেই তাদের মুক্তি দেয়া হবে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের সাথে সাক্ষাত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও কারাগারের বাইরে ও ভেতরে নিয়মিত ভাইরাসনাশক ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, করোনার কারণে সরকার লঘুদণ্ড ও ২০ বছরের অধিক সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সরকারের সাধারণ ক্ষমার আওতায় ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তি পেয়েছেন ৩ জন বন্দি। ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারের ধারণ মতা সবমিলিয়ে ১৬৫ জন হলেও ১৩ জন মহিলাসহ সেখানে ৩৫৩ জন বন্দি গণনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ।
কেএ/বার্তাবাজার