পুরো বিশ্ব যখন মরণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে প্রবেশ করছে শত শত অবৈধ শরণার্থী। এদের মধ্যে রয়েছেন শতাধিক বাংলাদেশি।
ইতালি সরকার দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেয়ার ঘোষণা দিলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। লিবিয়া এবং তিউনিসিয়া থেকে আসার পথে মাঝ সমুদ্র থেকে তাদের উদ্ধার করে দুটি এনজিও জাহাজ।
ইতালি সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেয়ার ঘোষণার পরই করোনা মহামারি উপেক্ষা করে ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে শত শত অবৈধ শরণার্থী প্রবেশ করেছে ইতালিতে। এর মধ্যে রয়েছেন ১২৭ বাংলাদেশি।
এদিকে আটকে পড়া দুই লাখ অবৈধ শ্রমিককে বৈধতা দেয়ার যে কথা চলছিল তা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনিসহ বিভিন্ন মহল।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর অবৈধভাবে ইতালিতে আসা চারগুণ বেড়েছে। যেহেতু সব অবৈধদের বৈধতা দেয়ার আলোচনা চলছে, এভাবে আসাটাই স্বাভাবিক। সরকার যদি এভাবে বৈধতা দেয়ার বাস্তবায়ন করে তবে আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হব।
এদিকে কোভিড নাইন্টিনের কারণে মৌসুমি ভিসায় এসে আটকে পড়া দুই লাখ অবৈধ শ্রমিককে বৈধতা দেবার যে কথা চলছিল তা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। তিনটি মন্ত্রণালয় অবৈধদের বৈধতা দেবার ব্যাপারে একমত পোষণ করলেও কারো কারো বিরোধিতার প্রেক্ষিতে কৃষিমন্ত্রী পদত্যাগেরও হুমকি দিয়েছেন। কারণ বৈধতা দেয়া হলে সমুদ্রপথে ইতালি প্রবেশের ঢল নামার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারাও জানিয়েছেন, সব অবৈধদের বৈধতা না দিলেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের যোগ্যতা দিয়ে এখানে বৈধতার সুযোগ পাবে। অনেক বাংলাদেশি ইতালিতে দীর্ঘদিন অবৈধভাবে বসবাস করছেন। করোনা ভাইরাসের সুযোগে বৈধতা পেলে স্বপ্নের ইতালিতে আসা এ সব প্রবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।
বার্তাবাজার/এমকে