ভাঙ্গা টিনের ঘরে শিশু সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে এতিম রিক্তা

ঘরে খাবার নেই। কোলে দুধের শিশু বাঁচাবো কি করে! সরকার কত কিছু দেয় শুনেছি। কিন্তু আমরা গরীব-অসহায় দিনমজুর হয়েও আজ পর্যন্ত কোন খাদ্য সহায়তা পাইনি। আমাদের কষ্ট কেউ দেখে না। আজ তিনদিন বাড়ীতে কোন খাবার নেই্ তাই হাড়ি জ্বলেনি। নিজেরা খেতে পাইনা। আয় রোজগার না থাকায় শিশুর দুধ -সাবু কিনতে পারছিনা।বুকের শিশুকে কি খাওয়াবো। আল্লাহই শুধু ভরসা। এত কষ্ট নিয়ে ২ শিশু সন্তান নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো, কে আমাদের জায়গা দেবে!

মা বাবা হারা এতিম রিক্তা খাতুন শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না জড়িত কণ্ঠে বুকে চাপা কষ্ট নিয়ে এই কথাগুলো বলছিল বার্তা বাজার কে। তার বুক ফাটা আর্তনাদ কেউ দেখে না। উপলব্ধির জায়গা থেকে এমন কষ্ট দেখে অশ্রু সংবরণ করা কঠিন। রিক্তা খাতুন মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ভবানীপুর (স্কুল পাড়া) গ্রামের দিনমজুর অসহায়-ভূমিহীন আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, জন্মের কিছুদিন পরেই মাকে হারিয়ে নানীর কাছে লালিত হয়েছেন রিক্তা খাতুন। বাবা অন্যত্র বিয়ে করে সন্তান ফেলে পালিয়ে গেছে। দুঃখ কষ্ট সহ্য করে বাল্য বয়সেই মা বাবা হারা এতিম রিক্তার সাথে একই গ্রামের আর এক গরীব ইয়াত আলমগীরের সাথে বিয়ে হয়। নিজের কোন জায়গা জমি নেই । নেই ঘর-বাড়ি। রিক্তা যেনো আজ সবকিছু থেকে রিক্ত। অন্যের জায়গায় এতিম ছোট্ট একটি টিনের খুপড়ি ঘরে দুই শিশু সন্তান নিয়ে বসবাস। ছোট্ট ঘরেই রান্না, ঘরেই আঁধা পেটা খেয়ে শুয়ে থাকা। ঘরের বেড়ার নিচ দিয়ে অনায়াসেই যাতায়াত করতে পারে সব জীব-জন্তু। সাপ বিচ্ছুর ভয়ে কখনও শিশুকে ঘরের ভাঙ্গা চোরা মেঝেতে রাখা যায়না।

হতদরিদ্র স্বামী আলমগীর হোসেন দিনমজুর। রাজমিস্ত্রীর যোগাল হিসাবে কাজ করে থাকে। রিক্তা খাতুন জানান,আমি জেনেছি মায়ের মমতা দিয়ে অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার কল্যাণে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি যদি আমাকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দিতেন তাহলে আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকতাম। সরকারী সহযোগিতা অথবা এলাকার বিত্তবানরা যদি আমাদের এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়াই তাহলে আমি শিশু দুটি নিয়ে বেঁচে থাকবো। নইলে ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে হয়তো আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কাজ- কর্ম সব বন্ধ । তাই হাত পা গুটিয়ে বসে রয়েছে আলমগীর হোসেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনেকেই খাদ্য সহায়তা পেলেও রিক্তা কিছুই পায়নি। বর্তমানে সে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভবানীপুর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আনারুল বার্তা বাজার কে জানান, আমিও গরীব মানুষ। অসহায় মানুষের জন্য আমি ব্যক্তিগত ভাবে কয়েকজনকে খাদ্য সহায়তা করেছি। পরবর্তীতে আমি রিক্তা খাতুনের নাম তালিকাভূক্ত করে সহায়তা দেব।

বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর