মহামারীর এমন নজির এর আগে দেখেনি বিশ্ববাসী। চারদিকে শুধুই মৃত্যু আর হাহাকার।কোভিড-১৯ ভাইরাসে বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়েছে, মৃত্যুমিছিলে বলি হয়েছে ২ লক্ষের অধিক প্রাণ। বাংলাদেশেও আক্রান্তের সংখ্যা দশ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু দেড় শতাধিক। পৃথিবীতে রাজত্ব করা দেশগুলোও যেনো অসহায় করোনার কাছে। কোনো বোমা বারুদেই নিশ্চিহ্ন করা যাচ্ছে না অদৃশ্য এই শত্রুকে।নোভেল করোনার ভয়াবহতা ও স্থায়ীত্বকাল ভেঙে দিয়েছে অতীতের সব রেকর্ড।
ভোলা জেলাকে করোনামুক্ত রাখার প্রয়াসে দিনরাত স্বেচ্ছাসেবায় কাজ করে যাচ্ছে সাহসী এক তরুণ সাব্বির মুন্না। পেশায় প্রকৌশলী। দেশের এই দুর্দিনে নিজ উদ্দ্যোগে গঠন করেছে তার স্বেচ্ছাসেবী সংঘ “চিলেকোঠা”। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে অবিরত কাজ করে যাচ্ছে সাব্বির মুন্না ও তার টিমের সদস্যরা। বর্তমানে চিলেকোঠার সদস্য সংখ্যা ১০০ জন। একজন সাধারণ নাগরিক হয়েও যে দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা যায় তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সাব্বির মুন্না। হাসিখুশি তারুন্যদীপ্ত যুবক সাব্বির মুন্না দেশের বিপদে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছে।নিজের অর্থায়নে ভোলা জেলার যুবকদের উদ্বুদ্ধ করে জেলায় মানুষের সামাজিক দূরত্ব ও স্যানিটাইজেশন নিশ্চিত করছে এই তরুন। ভোলা জেলা তার নিজের জেলা না হলেও কর্মস্থল ভোলাকে ভালোবেসেই তার এই স্বেচ্ছাশ্রম। পুলিশের সহযোগিতায় নিজের টিমের সদস্যদের নিয়ে ভোলা জেলায় বহিরাগতদের অবৈধ অনুপ্রবেশে বাধা দিচ্ছে সে।এছাড়াও কাচা বাজারে ও জনসমাগমে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরন,মাস্ক বিতরণ, গ্লাভস বিতরণ, হ্যান্ডরাব দিয়ে স্যানিটাইজেশন, রিকশা বা মোটরবাইকে একজনের বেশি যেতে বাধা দেওয়া, খাবার ও স্যানিটাইজার বিতরণসহ উন্নয়নমূলক কাজ করছে সাব্বির মুন্না ও তার টিম। ভোলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়েও তারা ত্রান পৌছে দিয়েছে।নিজের মাসিক বেতনের টাকায় ৩০০ পরিবারকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ত্রান দিয়েছে সাব্বির মুন্না। লুকিয়ে আসা বহিরাগতদের শনাক্ত করে জেলা প্রশাসকের সহায়তায় তাদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করেছে সাব্বির মুন্নার সংঘ চিলেকোঠা। রোদ বা তীব্র ঝড় বৃষ্টি কোনো কিছুই দমাতে পারেনি তাদের এই স্বেচ্ছাশ্রম। প্রতিকুলতা উপেক্ষা করেই রোজা রেখে কাজ করে যাচ্ছে তারা।
এ বিষয়ে চিলেকোঠার সাব্বির মুন্না বলেন, “সবাইকে একসাথে মিলে দেশকে করোনামুক্ত করতে হবে। প্রকৃত বীর সেই যে দেশের বিপদে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে,এই যুদ্ধে আমাদের জিততেই হবে।” সাব্বির মুন্নার প্রত্যাশা দেশের প্রত্যেক জেলায় প্রত্যেক এলাকায় এরকম তরুন যুবকেরা নিজের এলাকার সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে ও বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এগিয়ে আসবে। সাব্বির মুন্নার এই স্বপ্ন পূরণ হোক, ভালো থাকুক টিম চিলেকোঠা। করোনাযুদ্ধ মোকাবেলায় তাদের এই দীপ্তশপথ সফল হোক।
সুস্থ এক বাংলাদেশের প্রত্যাশায় এক হয়ে যুদ্ধ করে আবারো বিজয় ছিনিয়ে আনবো আমরা..করোনার থাবায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন কিছুতেই নস্যাৎ হতে দিবো না – এই হোক মুজিববর্ষের অঙ্গীকার।করোনাযুদ্ধের স্লোগান হোক- ” আতংক নয় সজাগ হই, দেশ বাচাতে ঘরে রই।”
বার্তা বাজার/এস.আর