সিরাজগঞ্জে শ্রমিক সংকট নিরসনে ধান খেতে তরুণরা

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চলমান লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া হত-দরিদ্রদের মাঝে ঈদ সামগ্রী তুলে দিতে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের বাড়াকান্দি গ্রামের ৩০ জন উচ্চশিক্ষার্থী তরুণ যুবক ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছেন।

তারা এলাকার বিভিন্ন কৃষকের জমিতে ধান কেটে প্রাপ্য অর্থ জমিয়ে এবারের ঈদে লকডাউনে কর্মহীন হয়েপড়া হতদরিদ্রদের মাঝে ঈদ সামগ্রী তুলে দিবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সবার সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই তারা এ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কথা হয় বাড়াকান্দি গ্রামের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র একরামুল হক ও ইঞ্জিনিয়ারিং ২য় বর্ষের ছাত্র রাসেল খানের সাথে তারা বলেন, আমরা সবাই ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যায়ন করি।

সম্প্রতিক করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমরা বাড়ি এসে বসে আছি। তাই বেকার বসে সময় নষ্ট না করে করোনায় অসহায় কর্মহীন মানুষের পাশে দাড়াতে এ উদ্যোগ নিয়েছি। নিজেদের হাত খরচের টাকায় প্রথমে ৩৫টি পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছি। এখন ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করে নিতে কর্মহীন ১২০টি পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আর এটা বাস্তবায়ন করার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। যা আমাদের পক্ষে জোগার করা জটিল। এদিকে কৃষকের জমির পাকা ধান কাটতে চলছে চরম শ্রমিক সংকট। আমরা কৃষকের এ সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ নিয়েছি।

ধানকাঁটা শ্রমিকরা প্রতিদিন ৫’শ থেকে ৬’শ নিয়ে থাকেন। কিন্তু আমরা দৈনিক মজুরি নিচ্ছি ৩’শ টাকা। এতে কৃষকেরও কিছুটা আর্থিক স্বাশ্রয় হচ্ছে। তারা বলেন, এ কাজ করে গত ১৫ দিনে আমাদের প্রায় ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় হয়েছে। আরও ২৫ হাজার টাকা লাগবে। এ জন্য আমরা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

আশাকরি ২৫ রোজার মধ্যে আমাদের এ টার্গেট পূরণ হবে। আমরা কৃষকের জমির পাঁকা ধান কেটে বাড়িতে পৌছে দিচ্ছি। বিনিময়ে পাওয়া মজুরির টাকা দিয়ে ঈদ সামগ্রী কিনে ১২০টি কর্মহীন হতদরিদ্র অসহায় পরিবারের বাড়ি বাড়িই পৌছে দেব। আমাদের এ উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন কৃষকদের ধান কাটার শ্রমিক সংকট দূর হচ্ছে। অপর দিকে অসহায় কর্মহীন পরিবারের মুখে হাঁসি ফুটে উঠছে।

তারা আরও বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা ২০০ শতজ জমির পাকা ধান কেটে কৃষকের বাড়িতে পৌছে দিয়েছি। স্থানীয়রা জানায়, বাড়াকান্দি উত্তরা তরুণ সংঘ’ নামে তাদের একটি সেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন রয়েছে। এ সংগঠনের পক্ষ থেকে তারা গ্রামের বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং বন্ধ ও ঝড়েপড়া শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা সহ নানা ধরণের সামাজিক কাজ করে এলাকায় প্রসংশিত হয়েছেন।

এ ধানকাটা কাজে অংশ নেওয়া যুবকরা হলো- একরামুল হক, জাকারিয়া হোসেন মামুন, ইমরান হাসান রবিন,রাসেল খান, মেহেদী হাসান বাপি, সোহাগ খান,ইয়াসিন খান, রাসেল রানা, ইয়াকুব, ইউনুস খান, সৌরভ খান,তালাত মাহমুদ অন্তর,মোহাইমিনুল ইসলাম হৃদয়,সিয়াম আহমেদ,রিয়াজুল ইসলাম,মাকসুদুল ইসলাম, জুলকার নাইম, সাগর খান, মাসুম খান, সায়েম সরকার,শরিফুল ইসলাম, মাজহারুল ইসলাম, আল-আমিন হোসেন রিপন, সোহানুর রহমান সবুজ, সিহাব উদ্দিন, মনিরুল ইসলাম, হৃদয় হোসেন আকাশ,শাহরিয়ার মাহমুদ সবুজ,আনিসুর রহমান, মিঠু,রয়হান,রাকিব,রিয়াজুল,হাসান,নাসির,বাবু,শাহরিয়া প্রমুখ।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর