করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে ২৫ মার্চ থেকে আমদানি রফতানি বন্ধ রয়েছে। একই অবস্থা ভোমরা বিপরীতে ভারতের ঘোজাডাঙা বন্দরেও। কোনো কাজ না থাকায় হাহাকার দেখা দিয়েছে বেকার হয়ে পড়া হাজার হাজার শ্রমিক ও বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মচারিদের মধ্যে। মাত্র ক’দিন আগেও ভোমরা বন্দর ছিল আমদানি রফতানির ভারে জমজমাট। ভারত থেকে প্রতিদিন আমদানি পন্যবাহী গাড়ি আসতো গড়ে ২০০ শতাধিক। পণ্য লোড আনলোড নিয়ে কর্মচাল্য ছিল এই বন্দরে।
কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে দু’দেশের মধ্যে আমদানি রফতানি এমনকি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াতও বন্ধ হয়ে গেছে পাসপোর্ট যাত্রীদের। সেই সাথে বন্দরের হ্যান্ডেলিং শ্রমিক, ট্রান্সপোর্ট কর্মচারি, সিএন্ড এফ কর্মচারি এমনকি বন্দর সংশ্লিষ্ট বহু মানুষ হয়ে পড়েন বেকার।
বুধবার সকালে সরজমিনে যেয়ে কথা হয় বিভিন্ন শ্রমিকদের সাথে তারা বলেন, আমাদের কাজ নেই। এখন খাবো কি। আমরা বেকার হয়ে পড়েছি। সরকার আমাদের হাতে কিছু ত্রাণ দিয়েছে। কিন্তু এতে ক’দিন চলে। আমরা ত্রাণ চাইনা । কাজ চাই। বন্দর খুলে দিলে আমরা ভালো থাকবো। আমদানি রফতানি বানিজ্যও ভালো হবে।
করোনার প্রভাবে ভোমরার বিপরীতে ভারতের ঘোজাডাঙ্গা বন্দরে বাংলাদেশমুখী পণ্যবাহী শতাধিক ট্রাক পড়ে রয়েছে। এতে থাকা পচনশীল পণ্য বিশেষ করে পেঁয়াজ, ফল ইত্যাদি নষ্ট হয়ে যাবার আশংকা রয়েছে। বন্দর চালু না হলে এসব ভারতীয় গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছে না।
কথা হয় ভোমরা স্থলবন্দর সিএন্ড এফ কর্মচারী শাহজাহান বাবুর সাথে তিনি বলেন, এই বন্দরে চাকুরি করেই আমাদের সংসার নির্বাহ হয়। হাত পাতার অভ্যাস আমাদের নেই। আমরা কাজ করে খেতে চাই। বন্দর খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ভোমরা বন্দরে চা বিক্রেতা হোটেল শ্রমিকসহ সকলেই একই অবস্থার শিকার। তারা কাজ না পেয়ে হতাশ। তাদের দরজায় ঝুলছে তালা। বেকার হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা।
ভোমরা বন্দর হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হারু ঘোষ বলেন, এ বন্দরে সরকারি রেজিষ্ট্রেশনকৃত চারটি শ্রমিক সংগঠনে ৬ হাজারের অধিক শ্রমিক রয়েছে। তাঁরা সবাই এই বন্দরের উপর নির্ভরশীল। এপর্যন্ত সরকারের দেওয়া সাড়ে ১৮ মেট্রিকটন চাল সহায়তা পেয়েছে শ্রমিকরা। সেটা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই শ্রমিক নেতা আরো বলেন, দু-দেশের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে স্বাস্থ্য বিধি মেনে যদি বন্দর খুলে দেওয়া যায় তবে হাজার হাজার শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন থেকে মুক্তি পাবে।
ভোমরা স্থলবন্দর সিএন্ড এফ অ্যাসোসিয়েশন এর সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানিয়েছেন, গত ২৫ মার্চ থেকে বন্দর বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এর ফলে বন্দরে শ্রমিক কর্মচারিদের মধ্যে হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। এদের সংখ্যা সব মিলিয়ে ১০ হাজারের কম নয়। তাদের কাজ নেই। তারা ত্রাণ চায়না। বরং কাজ চায়। আমরা বন্দর চালু করার জন্য সরকার ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন কর্মচাল্যহীন এক বন্দরের নাম ভোমরা স্থল বন্দর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন যশোরের বেনাপোল বন্দর চালু করেছে সরকার। ভোমরা বন্দর চালু করলে এই হাহাকার থেকে শ্রমিক কর্মচারিরা রক্ষা পেতেন।
ভোমরা স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা শেখ এনাম হোসেন বলেন, গত ২৫ মার্চ আমাদের ভোমরা পোর্টে সকল আমদানি রফতানি বন্ধহয়ে যায়। যদিও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চিঠি অনুযায়ী আমদানি রফতানি কার্যক্রমের জন্য আমাদের অফিস খোলা আছে। আমরা দফতরে সবাই উপস্থিত আছি। কিন্তু ভারত কর্তৃপক্ষ মালামাল না দেওয়ার কারণে বন্দরে কোনো প্রকার আমদানি রফতানি হচ্ছেনা। কবে নাগাদ ভোমরা বন্দর চালু হবে তা অনিশ্চিত। তবে ভারতের কর্তৃপক্ষ যখন মালামাল দিবে তার তিন দিন আগে আমাদের জানাবে বলে জানিয়েছে তারা। আমরা আশা করছি প্রতিকূল পরিবেশ দুর হতেই বন্দর ফের চালু হয়ে যাবে। তখন আবারো শুরু হবে এ বন্দরে কর্মতৎপরতা।
বার্তা বাজার/এম.সি