প্রতিদিনই বাড়ছে দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা। দেশের এ কঠিন সময়ে ডাক্তার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামনে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন সাংবাদিকরা। যার ফলে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত অর্ধশতাধিক সংবাদকর্মী নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন এক সাংবাদিক। সুস্থ হয়েছেন ১১ জন। কোয়ারেন্টিনে আছেন শতাধিক। এ ছাড়া প্রায় প্রতিদিনই আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এ ছাড়া একাধিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠানে আক্রান্তের খবর গোপন করলেও কর্মীদের চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে করোনার এ মহামারীকালে স্বাস্থ্যকর্মী, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, আইনশৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীরাও সামনে থেকে তথ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক বিভাগের সম্মুখযোদ্ধাদের নিরাপত্তা, আক্রান্ত কিংবা দুর্ঘটনা ঘটলে আর্থিক নিরাপত্তার সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে তথ্যসেবকদের বেলায় উল্লেখযোগ্য কোনো সহায়তার আশ্বাস এখনো মেলেনি।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ বলেন, করোনা মোকাবিলায় যারা সামনে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন, প্রথমসারির যোদ্ধা, তাদের মধ্যে গণমাধ্যমকর্মীরাও অন্যতম।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সাংবাদিকরা অন্যতম ভূমিকা পালন করছেন। তাদের সুরক্ষায় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিক কিংবা দায়িত্বশীল ও সরকারকে যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে এক সাংবাদিক করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সাতক্ষীরায় আরও এক সাংবাদিক মারা গেছেন বলে শুনেছি।
তাদের পরিবারকে মালিক ও সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন বড় অঙ্কের আর্থিক অনুদান দেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে আমরা যোগাযোগ করছি। ঘোষণা দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন করেনি। আমরা আশা করছি সরকার ডাক্তার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষেত্রে যেভাবে আর্থিক অনুদানের ঘোষণা দিয়ে সহায়তা করছেন তেমনি গণমাধ্যমকর্মীদের বেলায়ও দ্রুতই তেমন আর্থিক সহায়তা দেবে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রাথমিক দায়িত্ব নিজ প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত প্রথম সারির হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান পদক্ষেপ নেয়নি বলে জেনেছি। আমরা একাধিকবার স্টেটমেন্ট দিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষার বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য বলেছি।
তিনি আরও বলেন, এ দুর্যোগ মোকাবিলায় সাংবাদিকরাও কিন্তু প্রথম সারির যোদ্ধা। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। পেশাজীবী হিসেবে কিন্তু তারা সরকারের কাছে প্রণোদনা আশা করেন। সাংবাদিকরা কিন্তু গুজবরোধে অসামান্য ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে একজন সাংবাদিক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত সেই সাংবাদিক পরিাবরের পাশে পত্রিকাটির মালিক পক্ষ কিংবা সরকারের কোনো সহায়তা মেলেনি। একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও মৌখিক আশ্বাসেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ। আশা করি সরকার সম্মুখযোদ্ধা গণমাধ্যমকর্মীদের মর্যাদা ও ভূমিকা বিবেচনায় সরকারের আর্থিক প্রণোদনার বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
ঢাকায় কর্মরত সংবাদকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক গ্রুপ-‘আমাদের গণমাধ্যম-আমাদের অধিকার’-এর তথ্য অনুসারে গতকাল পর্যন্ত কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন ৬২ গণমাধ্যমকর্মী। মৃত্যু ১, সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১১ জন।
এ ছাড়া আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছিলেন এমন প্রায় দেড়শ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। হোম কোয়ারেন্টিন শেষ করেছেন শতাধিক সাংবাদিক। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই বেসরকারি টেলিভিশনের সংবাদকর্মী। এ ছাড়া দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজপোর্টাল ও বেসরকারি রেডিওতে কর্মরত সংবাদকর্মী রয়েছেন।
নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে বেশ কয়েকটি মিডিয়া হাউস কর্মীদের বাসায় থেকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে গ্রুপ ভাগ করে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছে। একাধিক প্রতিষ্ঠান কর্র্মীদের বাসায় রেখে অনলাইনের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। একটি প্রতিষ্ঠান কর্মীদের পালাক্রমে অফিসে থাকার সুযোগ করে দিয়ে পত্রিকা প্রকাশ করছে।
গত ৩ এপ্রিল দেশে প্রথম গণমাধ্যমকর্মী করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়। বেসরকারি ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের এক ক্যামেরাপারসন আক্রান্তের খবর জানায় প্রতিষ্ঠানটি। সে সময় আক্রান্তের সংস্পর্শে যাওয়া ৪৭ সহকর্মীকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠায় ইনডিপেন্ডেন্ট কর্তৃপক্ষ। এর পর আরও অনেকের আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে গত ২৮ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দৈনিক সময়ের আলোর প্রধান প্রতিবেদক হুমায়ুন কবির খোকন।
কেএ/বার্তাবাজার