ছিলেন গার্মেন্টস মালিক, আজ ঠাঁই হলো বৃদ্ধাশ্রমে (ভিডিওসহ)

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (৭০)। বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার চরকৈজুরী গ্রামে । পরিবারের ৩ ছেলেকে কুলে-পিঠে করে মানুষ করেছেন। জীবনের শেষ মুহুর্তে অসুস্থ হয়ে কাজ-কর্ম করতে না পারায় পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে যান তিনি। এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তার স্ত্রী ও সন্তানরা। জীবনের শেষ বয়সে ঠাঁই হলো বৃদ্ধাশ্রমে।

মঙ্গলবার মিরপুরের চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে গিয়ে দেখা হয় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে। তিনি জানান, ১৯৭১ সাল থেকে নারায়নগঞ্জের চাষাড়ায় গার্মেন্টস্ ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন তিনি। মালিক ছিলেন ভাই ভাই রেটিং এন্ড গার্মেন্টস্ এর। আত্বীয় মামা শশুড়কে আড়াই কোটি টাকা দিয়েছিলেন মেশিন কিনতে কিন্তু সে সম্পুন্ন টাকা হাতিয়ে নেয়। সেই টাকা উত্তোলন করতে জমি বিক্রি করে অনেক মানুষকে আরও টাকা-পয়সাও দিয়েছেন কিন্তু কাজ হয়নি। তারপর খেয়ে-পরে বাঁচার জন্য চাকরি নেন একটি গার্মেন্টস কোম্পানিতে। কিন্তু; সেখানে স্ট্রোক করায় আর কোনো কাজ করতে পারেনি বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। তারপর চলে যান বাড়িতে।

সেখানে শুরু হয় নির্যাতন-বঞ্চনা। ছেলে,স্ত্রী জমি লিখে দিতে শুরু করেন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। শেষ গত ৩১ এপ্রিল সকালে গালমন্দের এক পর্যায়ে স্ত্রী স্বামী মোহাম্মদ আলীকে গালে থাপ্পর দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

ছবি- ভিডিও থেকে নেয়া।

তিনি আরও জানান, দুপুরের দিকে একটি বাসে চড়ে চলে আসেন ঢাকায়। কোনো কুল কিনারা না পেয়ে একজনের পরামর্শে আসেন মিরপুরের চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে।

ভিডিও….

বুকভরা কষ্ট আর মানসিক নির্যাতনে বাবার ঠাঁই হলো বৃদ্ধাশ্রম

বুকভরা কষ্ট আর মানসিক নির্যাতনে বাবার ঠাঁই হলো বৃদ্ধাশ্রমবিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- http://bartabazar.com/archives/166308

Gepostet von Barta Bazar am Dienstag, 5. Mai 2020

চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা মিল্টন সমাদ্দার বার্তা বাজারকে জানান, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এসে গেইটের সামনে থেকে ডাকছিলেন, গিয়ে ওনার সাথে কথা বলি ও ভিতরে নিয়ে আসি। ওনার কাছে রিক্সা ভাড়ার টাকাটাও ছিলো না। তিনি আমাদের কাছে আছেন। ওনার ছেলে-স্ত্রী প্রতিনিয়তই নির্যাতন করতো তাকে।

তিনি আরও বলেন, ওনার ছেলে ও স্ত্রী যে টর্চার করতো তা যদি সত্যি হয় তাহলে প্রশাসন যেনো তাদের আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেন।

ছবি- ভিডিও থেকে নেয়া।

এ বৃদ্ধাশ্রমে ৭৩ জন মা-বাবা আছে যারা একেবারেই পরিবার থেকে বিতারিত। তাদের দিয়েই মিলটন সমাদ্দারের সাজানো একটি পরিবার। বর্তমানে এখানে ৬৬ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও ছয়জন প্রতিবন্ধী শিশু আছে। আগে সাধারণ মানুষের সহায়তা পেলেও করানোভাইরাসে পুরোপুরি বন্ধ সেটি। এতে বিপাকে বৃদ্ধাশ্রমের অসহায় মানুষগুলো। এ অবস্থায় বিত্তবানদের সহযোগিতায় চেয়েছেন মিলটন সমাদ্দার। কেউ সাহায্য করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৬২০৫৫৫২২২ নম্বরে।

বার্তা বাজার/এস.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর