তাবলিগের বাহানায় সৌদি আরব গিয়ে ‘ইমাম মাহাদীর সৈনিক’ হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় জেএমবির ১৭ সক্রিয় সদস্যকে রাজধানীর কাকরাইল থেকে আটক করেছে কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ।
যারা গ্রেফতার হয়েছে তারা হলো- মোঃ জামিরুল ইসলাম (২৪), মোঃ আক্তারুজ্জামান (৩০), মোঃ হায়দার আলী (৪৪), মোঃ মাহমুদুল হাসান ওরফে মাসুম, মোঃ বিল্লাল হোসেন (৩৮), মোঃ শেখ আরাফাত ওরফে জনি (৪৮), মোঃ ইমরুল হাসান ওরফে ইমন (২৫), মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৫), মোঃ মোজাম্মেল হক (৩৩), মোঃ শাহজালাল(৩৪), মোঃ মাহমুদুল হাসান ওরফে সাব্বির (২৩), মোঃ আবিদ উল মাহমুদ ওরফে আবিদ (২২), মোঃ সোহাইল সরদার (৩৩), মোঃ ওবায়দুল ইসলাম ওরফে সুমন (৩০), মাহমুদ হাসান ওরফে শরীফ (১৮), মোঃ মাজেদুল ইসলাম ওরফে মুকুল ( ২৮) ও মোঃ সোহাগ হাসান (২০)।
তাদের আটক করতে এই অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগের এডিসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যা সাতটায় কাকরাইল মসজিদ এর বিপরীত পাশে পাবলিক হেলথ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের নিকট হতে বিভিন্ন ধরনের ১৯টি মুঠোফোন ফোন, ২ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা ও ৯২২ আমেরিকান ডলার জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জেএমবির সদস্য বলে স্বীকার করেছেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতরা দাবি করেন তারা ঈমাম মাহাদীর সৈনিক হিসাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি স্বরূপ সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এই পরিকল্পনা নিয়ে গত ১৮ মার্চ তারা প্রথমে সাতক্ষীরা ও পরে যশোর সীমান্তের কাছে বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান করেন ভারতে যাওয়ার জন্য। ভারত হয়ে সৌদি আরব চলে যেতো। সাতক্ষীরা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে পার হতে না পেরে ঢাকা হয়ে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সে মোতাবেক তারা ঢাকায় আসেন।
এডিসি তোহিদ বলেন, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ ছাত্র গত জানুয়ারি মাসে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে গমন করে আর ফিরে আসেননি। এছাড়াও বিভিন্ন সময় সা’দ, কাউসার, শরীফ, তোফাজ্জল, গিয়াসউদ্দিন, আলী আজম এবং রাশেদ নামে আরও ৭ জন ঈমাম মাহাদির সৈনিক হিসেবে যোগদানের উদ্দেশে সৌদিআরব হিজরত করেছেন বলে গ্রেফতারকৃতরা জানান।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
বার্তাবাজার/এসজে