করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যখন নাজুক তখন কৃষি পন্য নিয়ে বিপাকে চাষিরা। এদিকে পঞ্চগড়ে মরিচের লিফ ব্লাস্ট রোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার মরিচ চাষীরা। ছত্রাকজনিত এ রোগের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বাড়ায় ক্ষেতের মরিচ ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে।
গাছেই সিদ্ধ হয়ে ঝড়ে পড়ছে মরিচগুলো।গাছের পাতা ঝড়ে পড়ছে।মরিচ গাছের ডাল গুলো পঁচে শুকিয়ে যাচ্ছে। ঝিমিয়ে যাচ্ছে গাছ। ফলে উপায়ান্তর না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলার মরিচ চাষীরা। কি দিলে নির্মূল হবে এ রোগ জানা নেই তাদের। চাষীদের অভিযোগ করোনা পরিস্থিতিতে কৃষি কাজে মাঠ পর্যায়ে নেই কোন কৃষি কর্মকর্তা।
ফোন করে সাড়া মিললেও সরাসরি সাক্ষাৎ পাওয়া যাচ্ছে না তাদের। কৃষি কর্মকর্তা যে ওষুধ দিতে বলেন তা স্প্রে করলেও কোন কাজে আসছেনা। ফলে কীটনাশক দোকানদারেরা যে পরামর্শ দিয়ে ঔষধ দিচ্ছেন তাই কৃষক স্প্রে করছে।
এদিকে গুজব রটেছে ছত্রাকজনিত এ রোগে এন্টিসেপটিক স্যাভলন বা ডেটল এবং শ্যাম্পু একত্রে মিশিয়ে স্প্রে করলে দ্রুত সমাধান মিলবে এ রোগ হতে।
ফলে মরিচ চাষীরা গুজবের বশবর্তী হয়ে মরিচের লিফ ব্লাস্ট রোগের ওষুধ হিসেবে এন্টিসেপটিক স্যাভলন-ডেটল এবং শ্যাম্পু স্প্রে করা শুরু করেছে।
আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাজারে সরবরাহ নেই পন্য দুটির। সেই সাথে ৫০ মিলি’র স্যাভলন বা ডেটল ৩৫ টাকার স্থানে চাহিদাভেদে বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৫০ টাকায়। আর ১০০ মিলির স্যাভলন বা ডেটল ৬০ টাকার স্থানে বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৫০ টাকায়। বর্তমানে বাজারে প্রয়োজনীয় সরবরাহ নেই এই পন্য দুটির।
চড়া মূল্যেও মিলছেনা সহজে পন্য দুটি।কেউবা পন্য দুটি নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে স্টক ব্যবসায় নেমেছেন এ সুযোগে। কিন্তু আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো এন্টিসেপটিক ডেটল বা স্যাভলন ব্যবহার করে আদৌও এ রোগ দূর হবে কিনা জানেন না কোন কৃষকই। আবার এসব স্প্রে করলে মরিচ ক্ষেতের জন্য ক্ষতিকর হবে নাকি সেটিও জানেনা কোন মরিচ চাষী।
জেলার সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের লাখেরাজ ঘুমটি এলাকার মরিচ চাষী রমিজ উদ্দিন বলেন,শুনেছি মরিচের ছত্রাকজনিত লিফ ব্লাস্ট রোগের প্রধান কার্যকরী ঔষধ এন্টিসেপটিক ডেটল বা স্যাভলন। তাই অন্যদের দেখাদেখি আমিও স্প্রে করছি এসব। আমি ৫০ মিলির দুটি ডেটল কিনেছি ৩০০ টাকায়।
জেলার আটোয়ারী উপজেলার মরিচ চাষী বিমল চন্দ্র জানান, এবার অাগাম অতি বৃষ্টিতে মরিচের লিফ ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। আর করোনা পরিস্থিতিতে সহজে মিলছেনা ভাল কৃষি পন্য। শুনলাম সকলে এ রোগের ওষুধ হিসেবে এন্টিসেপটিক ডেটল বা স্যাভলন ব্যবহার করছে।
তাই কি আর করা আমিও সকলের দেখাদেখি ব্যবহার করলাম।তবে দাম একটু বেশি। কিন্তু এসব স্প্রে করে লিফ ব্লাস্ট রোগের কাজ করবে কিনা বা এতে ফসলের ক্ষতি হবে নাকি আমার জানা নেই।
পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আবু হানিফ জানান,আসলে আমি জানিনা কৃষক কার পরামর্শে এন্টিসেপটিক ডেটল বা স্যাভলন এবং শ্যাম্পু এসব ব্যবহার করছে।আসলে কৃষি বিজ্ঞানের ভাষায় এর কোন ভিত্তি নেই। তবে যেহেতু এটা ছত্রাকজনিত রোগ এবং আবহাওয়া গত কারণে এর সংক্রমণ বাড়ছে, সেহেতু ছত্রাকনাশক কীটনাশক স্প্রে করলেই কাজ হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি। কৃষকদের উচিত কৃষি বিভাগ ছাড়া অন্য কারো পরামর্শ গ্রহণ না করা এবং সর্বদা কৃষি বিভাগের সাথে যোগাযোগ রাখা।
কেএ/বার্তাবাজার