চট্টগ্রামে পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত ৩ জনের জবানবন্দি

চট্টগ্রামে গত ২৮ ফেব্রুয়ারী পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতার জেএমবি’র তিন নব্য সদস্য।

সোমবার (০৪ মে) চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র আদালতে হাকিম শফি উদ্দিনের উপস্থিতিতে গ্রেফতার ৩ জেএমবি সদস্য স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানান ঘটনার সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাগণ।

কাউন্টার ট্যারোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার পলাশ কান্তি নাথ জানান, “গত ২৮ ফেব্রুয়ারী নগরীর ষোলশহরস্থ ২নং গেইট এলাকায় মোড়ে পুলিশ বক্সে ঘটিত বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেফতারে গঠিত টিম রোববার (০৩ মে) বাকলিয়া থানাধীন ডিসি রোডের গণি কলোনীতে অভিযান চালিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর সোমবার (৪ মে) মহানগর আদালতের হাকিম শফি উদ্দিনের মজলিসে হাজির করলে তারা বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। বিস্ফোরণের হামলায় তারা আরো ১২ জনের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।”

বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার তিনজন হলেন- সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ ঢেমশা হাদুরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ ইসহাক মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ (২৪), দক্ষিণ মারফলা এলাকার মনির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ এমরান (২৫) ও উত্তর ঢেমশা মাইজপাড়া এলাকার মহরম আলীর ছেলে মোহাম্মদ আবু সালেহ (২৫)।

এদের মধ্যে মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ চকবাজার এলাকার নুরা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কম্পিউটার দোকানের কর্মচারী, এমরান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এবং আবু সালেহ ন্যাশনাল পলিটেকনিকের ছাত্র।

ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সেলিম, আবু সাদেক সহ তিনজন আইইডি নিয়ে এমরানের বাসায় যান। দুপুরে জুমার নামাজ শেষে কয়েক জায়গায় ঘোরাঘুরি করে সবাই মিলে বিস্ফারণের জন্য দুই নম্বর গেইট পুলিশ বক্সকে টার্গেট করেন।

রিমোট কন্ট্রোলারের মাধ্যমে কীভাবে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে এমরানকে সেই প্রশিক্ষণ দেন সেলিম। পরে তার হাতে রিমোট কন্ট্রোলার হস্তান্তর করেন। আবু সাদেক আইইডি পুলিশ সদস্যদের অগোচরে পুলিশ বক্সের ভেতরে থাকা টেবিলের নিচে রেখে আসেন। পরে এমরানকে ফোনে জানান তিনি।

এমরান বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে রিমোট কন্ট্রোলারটি আপন নিবাসের সামনে ডাস্টবিনে ফেলে দেন। পরে সাইফুল নামে আরেকজন ডাস্টবিন থেকে রিমোট কন্ট্রোলারটি সংগ্রহ করেন। তিনি পুলিশ বক্সের বিপরীতে যাত্রী ছাউনির পাশে দাঁড়িয়ে রিমোট কন্ট্রোলারের মাধ্যমে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটান।

বিস্ফোরণের পর এমরান ছাড়া অন্যরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে সাইফুল ডিসি রোডের গণি কলোনী এলাকার ওই বাসা ভাড়া নেন। সাধারণ ছুটিতে সবাই যার যার বাড়িতে চলে যায়।

পরে জহির নামে তাদের এক সদস্য ফোন করে বাড়ি থেকে সরে যেতে বললে সাইফুল, এমরান, আবু সালেহ সেলিমের দেওয়া ব্যাগ নিয়ে ডিসি রোডের বাসায় এসে আত্মগোপন করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা পলাশ কান্তি নাথ বলেন, গ্রেফতার নব্য জেএমবির সদস্যরা ইউটিউবে রাজ্জাক নামে একজনের বক্তব্য শুনে জঙ্গিবাদে অনুপ্রাণিত হয়। একই নিয়মে নামাজ পড়ার সময় তারা নিজেদের একই মতাদর্শ সেটা জানতে পারেন। পরে তারা এক এক করে সংঘবদ্ধ হন।

গ্রেফতার নব্য জেএমবির সদস্যরা ও পলাতক সদস্যরা জামায়াত অধ্যুষিত সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। এদের সবার বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তারা আগে শিবিরের আদর্শে বিশ্বাসী কী না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ মাহাবুবর রহমান বলেন, “পুলিশ বক্সে হামলার সঙ্গে জড়িত ৩ জন নব্য জেএমবির সদস্য বলে জানতে পেরেছি আমরা। তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। জড়িত যে কেহই হোক। কাহকে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবেনা।”

তাদের গ্রেফতারের পর চট্টগ্রাম নগরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান সিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ মাহাবুবর রহমান।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেট মোড়ে স্থিত পুলিশ বক্সে হঠাৎ এক বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের কারণ স্বরূপ প্রথমে সিগনাল লাইটের বৈদ্যুতিক ত্রুটিকে বিবেচনা করা হলেও সিএমপি কমিশনার মাহবুবুর রহমানের নির্দেশে ঘটনার বিশেষ তদন্তের স্বার্থে ঢাকা হতে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের টিম এসে তদন্ত করলে জানা যায় ঘটনাটি নাশকতার উদ্দ্যেশ প্রণোদিত ছিল এবং ঘটনাস্থল হতে বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্যের আলামত পাওয়া গেছে।

উক্ত বোমা বিস্ফোরণে সার্জেন্ট আরাফাতুর রহমান, সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ আতিকসহ ৫ জন আহত হন। যেখানে ২ জনের শরীরের অধিকাংশ অংশ আগুনে ঝলসে যায়।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর