করোনার মধ্যেও বসল পদ্মা সেতুর ২৯তম স্প্যান, দৃশ্যমান হলো ৪৩৫০ মিটার

করোনা আর ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যেও থেমে নেই পদ্মা সেতুর কাজ। এই রোদ, এই ঝড়-বৃষ্টি, এরিমধ্যে এগিয়ে চলছে বিশাল এই কর্মযজ্ঞ। সোমবার বসেছে সেতুর ২৯ তম স্প্যান (আইডি-৪এ)। মাওয়া প্রান্তের সেতুর ১৯ ও ২০তম পিলারের উপর বসেছে এ স্প্যানটি।

২৩ দিনের ব্যবধানে পদ্মা সেতুর ওপর বসেছে আরও একটি স্প্যান। সোমবার (৪ মে ) সকালে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ১৯ ও ২০ নম্বর পিলারের ওপর বসল ২৯তম স্প্যান । এদিকে, ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ২৯তমটি বসানো হলো। বাকি রয়েছে আর ১২টি স্প্যান। চলতি মাসের মধ্যে আরো একটি স্প্যান বসনো হতে পারে। সোমবার সকালে স্প্যান বসানোর বিষয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সকাল পৌনে ১১টায় ২৯তম স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়েছে এবং এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হলো ৪.৩৫ কিলোমিটার।

গতকাল রবিবার সকাল ৮টার দিকে স্প্যানটিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়ার কাছে কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ভাসমান ক্রেনে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ১৯ ও ২০ নং পিলারের নিকট। ২৯ তম স্প্যানের মাধ্যমে দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর ৪ হাজার ৩ শ’ ৫০ মিটার। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো: আব্দুল কাদের।

২৯তম স্প্যাটি বসে গেলো বাকী থাকলো মাত্র ১২টি স্প্যান। সংশোধিত সিডিউল অনুযায়ী আগামী নভেম্বরের মধ্যে সব স্প্যান খুঁটিতে বসে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা মনে করছেন নির্ধারিত সময়ের আগেই আগস্টের মধ্যে খুঁটির ওপর সব স্প্যান বসে যাবে। দ্বিতল সেতুর ওপরে থাকবে সড়কপথ আর নিচে থাকবে রেলপথ। যা এখন ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।

পদ্মাসেতুকর্তৃপক্ষ জানান, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটি দ্বিতল হবে, যার ওপর দিয়ে সড়কপথ ও নিচের অংশে থাকবে রেলপথ। সেতুর এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিটার। একেকটি খুঁটি ৫০ হাজার টন লোড নিতে সক্ষম। নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূলসেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের ‘সিনো হাইড্রো করপোরেশন’।

পদ্মাসেতুকর্তৃপক্ষ আরো জানান, চীন থেকে স্প্যানের একটি বড় চালান এখন বাংলাদেশে এসে পৌছেছে। এটি এখন মোংলায় রয়েছে। ২-১ দিনের মধ্যে এটি মাওয়ায় পৌছে যাবে। এই চালানটির জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা চলছিল। ২৭ মার্চ চালানটি সমুদ্র পথে রওনা হয়। সেতুর ৪১টি স্প্যানের ৩৯টি স্প্যানই মাওয়ায় পৌঁছেছে অনেক আগে। কিন্তু বাকি থাকা ২টি স্প্যান নিয়েই নানা শঙ্কা তৈরি হয়। কারণ প্রথম চীনে করোনার শুরু হওয়ায় এই স্প্যান দুটি নিয়ে দায়িত্বশীলরা ভাবনায় পড়েন। পরবর্তীতে চীনের করোনা সঙ্কট কেটে যাওয়ার পর স্প্যান দুটির ফিনিশিং কাজ শেষ করে বড় এই চালানটি রওনা হয়। সর্বশেষ স্প্যান দুটি ২৩০ খন্ডে বিভক্ত। এর মধ্যে ২৭ মার্চ রওনা হওয়া বড় চালানটিতে ১৯৩টি খন্ড রয়েছে। বাকি ৩৭টি খন্ড নিয়ে আরেকটি ছোট চালান রওনা হচ্ছে ৫ মে। এটিই স্প্যানের সর্বশেষ চালান। এর মধ্য দিয়েই চীনে তৈরি করা সেতুর স্টিলের তৈরি স্টাকচার (স্প্যান) আসা শেষ হচ্ছে। সেতুর এই স্প্যান তথা স্টাকচারের প্রতিটি ১৫০ মিটার দীর্ঘ। ৪১টি স্প্যানের ২৮টি খুঁটিতে স্থাপনও হয়ে গেছে। এতে সেতুর বড় অংশ অর্থাৎ ৪.২০ কিলোমিটার এখন দৃশ্যমান হয়েছে। ২৯তম স্প্যান বসে যাওয়ায় দৃশ্যমান হলো ৪৩৫০ মিটার বা ৪.৩৫কিলোমিটার।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর