বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিবেশী কয়েকজন কিশোর। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রবিবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের মধ্য ভোপলা গ্রামের হেলাল ইসলাম ওরফে নাপিত (২২), পশ্চিম ভোপলা গ্রামের নাঈম ইসলাম নাসির (১৯), একই গ্রামের সোহেল ইসলাম (২২), উত্তর বোচাপুকুর গ্রামের আল আমিন ইসলাম শাহিন (২০), বোচাপুকুর বিশুরদিঘী গ্রামের সামিউল ইসলাম (২৬) এবং বোচাপুকুর ডাক্তারপাড়া গ্রামের ১৭ বছর বয়সী আরও দুই কিশোর।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতারকৃতরা ওই ইউনিয়নের পশ্চিম ভোপলা গ্রামের এক কিশোরীকে প্রায় সময় উত্ত্যক্ত করত। এর প্রতিবাদ করে কিশোরীর ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া ছোট ভাই (১৫)।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রেফতারকৃত কিশোররা ওই স্কুলছাত্রকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার নাম করে গত ২৪ এপ্রিল কিশোররা কৌশলে ওই স্কুলছাত্রকে বাড়ির পাশে ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। পরে লাশ পাশের ধান ক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায়।
পরদিন (২৫ এপ্রিল) স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় ওইদিনই নিহতের বড়ভাই অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও জানান, ৩০ এপ্রিল গ্রেফতারকৃত সাত জনের মধ্যে তিনজন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেন। আদালতে তারা হত্যাকাণ্ডে জরিত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
গ্রেফতারকৃত কিশোরদের ছয়জনের বয়স ১৭ থেকে ২২ বছর এবং অপরজনের বয়স ২৬ বছর। পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান গ্রেফতারকৃত আসামীদের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করেন।
কেএ/বার্তাবাজার