দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সক্রমণ পরিস্থিতিতেও বন্ধ হয়নি সড়ক দুর্ঘটনা। করোনার ব্যাপক বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে চলছে সাধারণ ছুটি। এ ছুটিতে জরুরি পণ্য সংশ্লিষ্ট ছাড়া সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আর মানুষের চলাচল সীমিত করতে বন্ধ রাখা হয়েছে গণপরিবহন। বলা চলে, গোটা দেশ লকডাউনের মধ্যেই রয়েছে। দেশে এ পর্যন্ত করোনার মৃত্যুর থেকে গত এক মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় এর চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
করোনায় এ পর্যন্ত ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর গত এক মাসে শুধু সড়ক দুর্ঘটনায়ই ২১১ জনের প্রাণহানি।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। দেশের সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
রোববার (০৩ মে) বিকেলে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক জানান, ‘কোনো কিছুই থামাতে পারছে না সড়ক দুর্ঘটনা। গত ২৬ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশব্যাপী পরিবহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হলেও লকডাউনের এক মাসে ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ২১১ জন নিহত ও ২২৭ জন আহত হয়েছেন। একই সময় নৌ-পথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ২ জন আহত এবং ২জন নিখোঁজ হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, এই মাসে সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৬৯ জন পথচারী, ৬৭ জন চালক, ৩২ জন পরিবহন শ্রমিক, ১৩ জন শিক্ষার্থী, ৩ জন শিক্ষক, ৪৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ২৭ জন নারী, ২১ জন শিশু, একজন সাংবাদিক এবং একজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বলে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।
এরমধ্যে নিহত হয়েছেন ৫০ জন চালক, ৬৪ জন পথচারী, ২২ জন নারী, ১২ জন শিক্ষার্থী, ২০ জন পরিবহন শ্রমিক, ১৮ জন শিশু, একজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৩ জন শিক্ষক ও একজন সাংবাদিক।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সর্বোচ্চ ৯৭টি দুর্ঘটনা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৬৩টি দুর্ঘটনা মোটরসাইকেল, ২৯টি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ২৮টি নসিমন ও করিমন, ২২টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ১৭টি প্রাইভেট কার এবং একটি বাস এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।
বার্তাবাজার/এমকে