চা-বিড়ির দাম চাওয়ায় দোকানির পা ভেঙে দিলো গ্রাম পুলিশ!

চা-বিড়ির দাম চাওয়ায় এক দোকানিকে পিটিয়ে পা ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে।

গত ১০ এপ্রিল যশোরের চুড়ামনকাটিতে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্না।

চেয়ারম্যান বলেন, “এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ষষ্ঠী দাস সাগর (৪২) সেলুনে চুল কাটার কাজ করেন। কিন্তু বর্তমানে লকডাউনের কারণে সেলুন বন্ধ থাকায় আয় বন্ধ হয়ে যায় তার। অভাব মেটাতে সে বাড়ির পাশে ছোট চায়ের দোকান দিয়ে বসে। এক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের দুই গাম পুলিশ সদস্য- ভোলা দাস ও তরিকুল ইসলামের সাথে সাগরের মারপিট হয়। সাগর বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমি তার চিকিৎসার জন্য টাকাও দিয়েছি।”

এদিকে ভুক্তভোগী চায়ের দোকানদার সাগর বলেন, “চায়ের দোকান থেকে যে আয় হতো তাই দিয়ে আমার সংসার চলে এখন। গ্রাম পুলিশ ভোলা ও তরিকুল প্রায় সময় আমার দোকানে চা-সিগারেট খায়। কিন্তু টাকা দেয় না। টাকা চাইলে মারতে আসে, গালিগালাজ করে।”

সাগর আরও অভিযোগ করেন, গত ১০ এপ্রিল ভোলা দাস ও তরিকুল ইসলাম তার দোকানে চা ও নেভি সিগারেট খায়। পরে তিনি টাকা চাইলে দোকান বন্ধ করে দিতে বলেন ওই দুই চৌকিদার। এ নিয়ে তাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয় সাগরের। ঘণ্টাখানেক পরে ভোলা তাকে বাজারে ডেকে নিয়ে যান এবং তরিকুলের সহায়তায় লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন সাগরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. বজলুর রশিদ টুলু বলেন, “সাগরের ডান পায়ের হাড় ভেঙে গেছে।১৭ এপ্রিল তিনি ভর্তি হন এবং ২৮ এপ্রিল তার অপারেশন করে পায়ের ভেতরে রড ঢুকানো হয়। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।”

জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “এখনই খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা ট্রিবিউন

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর