যশোর চৌগাছা উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের চাঞ্চল্যকর আশরাফুল অপহরণ মামলার আসামি হানিফ (২৮) কে গ্রেফতার করেছে চৌগাছা থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার বজ্রাপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে হনিফ (২৮)।
দীর্ঘ (৩ মাস)অতিবাহিত হলেও এই মামলায় হাল ছাড়েননি চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব। তবে কোন মতেই তিনি কুল কিনারা খুজে পাচ্ছিলেন না।
তাইতো অনুসন্ধানকালে যতোগুলো মোবাইল নাম্বার তিনি পেয়েছিলেন সেগুলোর সূত্র ধরে খুব গোপনে তদন্ত শুরু করেছিলেন । অবশেষে মিলল হানিফের সন্ধান। পেশায় ডাকাত হানিফের নামে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানায় একটি পুলিশ এ্যাসল্ট ও ডাকাতির মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা আছে বলেই জানালেন চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌগাছা থানার ওসি (তদন্ত) এনামুল হক জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহয়তায় বৃহস্পতিবার (৩০শে এপ্রিল) সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা শহরের ঋষিপাড়া এলাকা থেকে থাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজিব গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে আমরা যখন নিশ্চিত হলাম যে হানিফ ডাকুয়া একজন কুখ্যাত ডাকাত। তার নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ বা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয় দিয়ে নিরীহ মানুষকে আটক করে মুক্তিপন আদায় করত।
তারা গাড়ি ভাড়া করে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে ঘুরতে সুযোগ মতো কাউকে পেলেই অপহরন করে বা ডাকাতি করে সটকে পড়তো। অবশেষে হানিফের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে আমরা চুয়াডাঙ্গা থানাকে ইনফর্ম করি। সেখান থেকে দর্শনা তিতদাহ পুলিশ ক্যাম্পের মাধ্যমে হানিফকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।
গ্রেফতারের পরে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।শুক্রবার আসামি বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার সহযোগী আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব।
উল্লেখ্য, গত (২৭ শে জানুয়ারি) ২০২০ তারিখে চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম (৬০) কে একদল অপহরণকারী পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরেরদিন চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় চৌগাছা থানা পুলিশ আশরাফুলকে উদ্ধার করেন।ওই ঘটনায় আশরাফুলের ছেলে চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
কেএ/বার্তাবাজার