সারাদেশের মধ্যে প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যাক্তির জানাজা নামাজ পড়িয়েছেন একজন সংসদ সদস্য। এমন ঘটনা সকলের কাছেই ইতোমধ্যে প্রশংসনীয় হয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পরেছে।
ইতিহাস সৃষ্টিকারী কাজ করে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরগুনা-২ আসনের এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমন। নিজেই মৃত্যুর পরোয়া না করে করোনায় মারা যাওয়া পুলিশ সদস্যের জানাজা পরালেন।
বৈশ্বিক মহামারি করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার মিরপুরে পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কর্মরত পুলিশের এ.এস.আই বরগুনার বেতাগী উপজেলা বাসিন্দা আঃ খালেক এর (৩৬) প্রানহানী হয়। ঢাকায় বেলা ১১ টায় জানাযা শেষে বেতাগীতে তার মৃতদেহ নিয়ে আসা হয়।
রাত আটটায় বেতাগীতে মৃত আঃ খালেকের কফিন বেতাগীতে পৌছালে বরগুনা-২(বেতাগী, বামনা,পাথরঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকত হাচানুর রহমান রিমন এমপি নিজে মরহুমের জানাজা নামাজের ইমাম হয়ে জানাজা নামাজ আদায় করে দাফন সম্পন্ন করেন। যা ইতোমধ্যে বরগুনা জেলাব্যাপি আলোচিত হয়েছে।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন পিপিএম, বেতাগী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মাকসুদুর রহমান ফোরকান,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.তোফায়েল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহজাহান হোসেন, বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিব আহসান, পৌর মেয়র এবিএম গোলাম কবির , বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাখাওয়াত হোসেন তপু সহ অন্যান্য পুলিশের সদস্যবৃন্দ।
পুলিশের এ.এস.আই আঃ খালেক’র জানাজা ও দাফন শেষে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকত হাচানুর রহমান রিমন তার শোকাতপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এবং মৃত এ.এস.আই আঃ খালেক এর স্ত্রী মোসা.ফতিমা বেগমের হাতে নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও ছেলে মেয়ে,পরিবারের জন্য খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন বরগুনা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন পিপিএম।
জানা যায়, মৃত এ.এস.আই আঃ খালেক ঢাকা মহানগর পুলিশ ডিএমপির পুলিশ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) দক্ষিণে কর্মরত ছিলেন।
ডিএমপির পুলিশ অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিওএম) যুগ্ম কমিশনার আব্দুল মালেক বলেন, প্রাথমিকভাব করোনার উপসর্গ দেখা দেয়ার পর এএসআই আব্দুল খালেককে আরামবাগে একটি হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নেয়া হয়।
বুধবার তার করোনার পরীক্ষার নমুনা পাঠানো হয়। রিপোর্টে তার করোনায় পজিটিভ আসে। এদিন বিকেল থেকে আব্দুল খালেকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন কোয়ারেন্টাইনে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। সেখান থেকে হাসপাতালে নেবার পর রাত সোয়া ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
এমন অনাকাঙ্খিত মৃত্যুতে গ্রামের বাড়ি বরগুনার বেতাগীতে শোকের মাতাম দেখা দিয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, এ.এস.আই আঃ খালেক ছাত্রজীবন ও চাকুরী জীবনেও মসজিদের ইমাম ছিলেন। এছাড়াও তার ১৩ ও ৮ বছর বয়সের দুটি মেয়ে ও ৪ বছর বয়সের একটি পুত্র সন্তান আছে। তিনটি সন্তানই বরিশাল বাকুয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন।
কেএ/বার্তাবাজার