করোনাভাইরাসে থমকে আছে পুরো দেশ। কঠিন এই সময়ে সবছেয়ে খারাপ সময় পার করছে দুস্থ-অসহায় মানুষগুলো। তাদের পাশে বিভিন্ন ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে মাশরাফি মুর্তজাকে। এবার নড়াইলে নিজ এলাকার এতিম ছাত্রদের পাশে দাঁড়ালেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।
করোনার প্রভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা যার যার পরিবারের সাথে আনন্দে জীবন-যাপন করছে। কিন্তু পিতামাতা হারা এতিমদের তো কেউ নেই। সেজন্যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও এতিম খানা বন্ধ হওয়ার সুযোগ নেই। আর এই সময় নিত্য প্রয়োজনীয় অভাবে তারা পরেছেন বিপাকে।
লোহাগড়া উপজেলার একটি এতিমখানার সুপার, লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এসে জানান;“তার এতিমখানা মাদ্রাসার সকল ছাত্রকে ছুটি দিতে পারলেও মানবিক কারণে ৮ থেকে ১০ জন ছাত্রকে ছুটি দিয়ে এতিমখানা বন্ধ করে পারেননি।
পিতা-মাতা হারা ওই ৮-১০ জন এতিম ছেলের যাওয়ার মতো কোন জায়গা নেই। নিরুপায় হয়ে তারা মাদ্রাসায়ই আছে কয়েকজন শিক্ষকের তত্বাবধানে।”
আর এমনটা শুনে ঐ মাদ্রাসার ২০ কেজি চাল বরাদ্দ দেন লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার। পরবর্তীতে এ ঘটনা জানতে পেরে, মাশরাফি বিন মুর্তজা তার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত সব এতিমখানায় আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে উপহার সামগ্রী দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫০ কেজি করে চাল প্রতিটি এতিমখানা মাদ্রাসায় উপহার হিসেবে পাঠাচ্ছেন মাশরাফি। লোহাগড়া উপজেলায় সর্বমোট ৩৪টি এতিমখানায় পাঠানো হয়েছে মাশরাফির উপহার।
প্রসঙ্গত যে, নড়াইলের মানুষের কথা চিন্তা করে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি নিজ উদ্যোগে নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন গঠন করেছেন। যার মাধ্যমে তার উদ্যোগে মাঠে নেমেছে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম। এছাড়া ডাক্তার-নার্সদের জন্য তিনি দিয়েছেন ৫০০ পিপিই এবং ১২০০ অসহায় পরিবারে করেছেন খাদ্যের ব্যবস্থা।
আবার করোনা মোকাবিলায় বিসিবির চুক্তিতে না থেকেও ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন মাশরাফি। এছাড়া কারাগারের কয়েদিদের মধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ করেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত এই ক্রিকেটার। এছাড়া করোনায় ডাক্তারদের নিরাপত্তার জন্যে খুলছেন সেফটি চেম্বার। আবার কৃষকদের জন্যে ধান কাটার মেশিনও কিনে দিয়েছেন তিনি।
কেএ/বার্তাবাজার