ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার মেয়র মো. রফিক উদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ এনে অনাস্থা জ্ঞাপন করেছে পৌর কাউন্সিলরবৃন্দ।
অভিযোগে জানা যায়, পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও নির্বাচিত কাউন্সিলরবৃন্দদের বাদ দিয়ে এককভাবে পৌর কার্যক্রম পরিচালনা করার গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন সকল কাউন্সিলরবৃন্দ।
কাউন্সিলরগণ জানান, সাম্প্রতিকালে ভয়াবহ করোনাভাইরাস জনিত কারণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত অনুদান কাউন্সিলরগণদেরকে অবহিত না করে এককভাবে সামান্য কিছু কাজ করে পৌর মেয়র বাকি সকল বরাদ্দ আত্মসাতের পায়তারা করে যাচ্ছে বলে কোন ধরনের সঠিক হিসাবে দিতে রাজি নন। এছাড়া পৌরসভার উন্নয়ন কাজের এডিপি, নগর উন্নয়ন প্রকল্প ও জাইকা প্রকল্পের কাজেও সীমাহীন দুর্নীতি করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে তুলে ধরা হয়। শুধু তাই নয় পৌর মেয়র নিজে, তার ভাই, ভাতিজা ও নিজ পুত্রের মাধ্যমে পৌরসভার সকল টেন্ডার নিয়ন্ত্রন ও পরিচালনা করে থাকেন বলে উন্নয়ন কাজের মান নিম্মমানের হচ্ছে বলে কাউন্সিলরগণ জানান।
পৌরসভার প্যানেল মেয়র রেজাউল করিম ভুইয়া রিপন ও শাহ আলম হেলিম মাহিন জানান, পৌর মেয়র পৌরসভার হাটবাজার, বাসাবাড়ির প্রাপ্ত ট্যাক্স ও যান্ত্রিক রোলার থেকে প্রাপ্ত আয়ের কোন ধরনের হিসাব-নিকাজ সুুষ্ঠুভাবে সংরক্ষন করেনা। যেনতেনভাবে আয়ের খাতগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছেন।
তারা আরও জানায়, বিগত ৪ বছরে সরকারি বিধি মোতাবেক কোন ধরনের বাজেট ঘোষণা করেন নাই। পৌরসদরের সুশীল সমাজ/কাউন্সিলরগণ বাজেটের প্রস্তাবিত আয়-ব্যয়ের বিষয়ে কোন মতামত প্রদান করতে পারে নাই। এছাড়া জাইকা প্রকল্প থেকে দেওয়া জিপ গাড়িটি ও পৌরসভার মোটরসাইকেল নিজ পরিবারের লোকজন ব্যবসায়িক কাজে ব্যাবহার করে যাচ্ছে এবং এরপূর্বেও উক্ত মেয়র রফিক উদ্দিন ভূইয়া ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির কারণে তাকে পদ থেকে বহিষ্কৃত করা হয়েছে বলে কাউন্সিলরগণ অভিযোগে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বরাবর সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অনাস্থা জ্ঞাপন করে অনুলিপি প্রেরণ করে।
এবিষয়ে পৌর মেয়র রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, কয়েকজন কাউন্সিলর নিজস্ব অনৈতিক কাজে অনেকেই দেউলিয়া হয়েছে। আবার অনেকেই ঋণের দায়ে দিশেহারা হয়ে তারা এখন আমার উপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। আমি তাদের অনৈতিক কাজে সমন্বয় না হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে এধরনের মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। এখানে করোনার ত্রাণ সরকারি নিয়ম মেনেই বন্টন করছি, আমার ভাইয়ের কোন ঠিকাদারি লাইসেন্স নাই, আমার ভাতিজা ও আমার পুত্র টেন্ডার নিয়ন্ত্রনে প্রভাব কাটানোর কোন প্রশ্নই আসেনা। আর আমার নামে বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ি (জিপ/মোটরসাইকেল) পারিবারিক কাজে ব্যবহার তো দূরের কথা, জ্বালানি খরচের জন্য সরকারি নির্ধারিত বরাদ্দকৃতের চেয়ে জ্বালানি খরচ কম হচ্ছে।
বার্তা বাজার/এম.সি