নতুন আতঙ্ক: আমেরিকায় বাড়ছে স্ট্রোকে মৃত্যু

করোনা সংক্রমণে নতুন বিপদ আমেরিকার সামনে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, সে দেশে ৩০ থেকে ৪০ বছরের যারা স্ট্রোকে মারা যাচ্ছেন, তাদেরও মৃত্যুর কারণ করোনা ভাইরাস। এর মানে, কোভিড থেকে স্ট্রোকও হতে পারে।

এ খবর জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে হঠাৎ করে শিরা ছিঁড়ে মৃত্যুই হল স্ট্রোক।

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ৩০ এবং ৪০ বছর বয়স এমন অনেকেই হঠাৎ অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ছেন, নয়তো মারা যাচ্ছেন। দেখা গেছে, যে সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণ হয়েছে, সেইসব এলাকার অন্য হাসপাতালগুলিতে অল্পবয়সি ও মাঝবয়সি স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতেই স্পষ্ট, ভাইরাসটিকে বুঝতেই পারছেন না চিকিৎসকেরা।

ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এখন দেখা যাচ্ছে শত্রু অনেক বেশি শক্তিশালী। দেহের সব অঙ্গই অকেজো করে ফেলছে। এর আগে কোভিড–১৯ ও স্ট্রোকের মধ্যে কোনও সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে উহানের কয়েকটি হাসপাতালে দেখা গিয়েছিল, খুব অসুস্থ ও প্রবীণদের স্ট্রোক হচ্ছে। এখন অবশ্য এই বিষয়টি নিয়ে তথ্য প্রকাশ করতে চলেছে আমেরিকার তিনটি বড় মেডিক্যাল সেন্টার। তখন করোনা ভাইরাস শরীরে ঢুকে কী কী ক্ষতি করছে, সে বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা রোগীদের ভয়ঙ্কর ধরনের স্ট্রোক হচ্ছে। এতে এক ধাক্কায় রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে মস্তিষ্কের একটা বড় অংশ অকেজো হয়ে রোগীর নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে, কথা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও রোগী হারিয়ে ফেলতে পারেন।

অনেকের মতে, কোভিড রোগীদের দেহের বিভিন্ন জায়গায় রক্ত জমাট বাধার কারণেই বাড়ছে স্ট্রোক। শিরায় জমাট বঁাধা রক্ত ছড়িেয় পড়ছে দেহে। এর পর ফুসফুসে গিয়ে রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ করে দিচ্ছে। হার্টের কাছকাছি জমাট বাধা রক্ত থাকলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। জমাট বঁাধা রক্ত হৃৎপিণ্ডের ওপরে উঠলে, তা পৌঁছে যায় মস্তিষ্কে। নিউ ইয়র্কের দমকল কর্মীরা এখন চারগুণ দেহ বাড়ি থেকে নিয়ে যাচ্ছেন। হয়তো এঁদের কারও কারও মৃত্যু হয়েছে স্ট্রোকেই। তবে ময়নাতদন্ত না হওয়ায় মৃত্যুর কারণ কোনও দিনই জানা যাবে না।‌

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর