করোনার কারণে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় সোনামসজিদ স্থলবন্দরের ওপারে ভারতের মহদিপুর স্থলবন্দরে পণ্য ভর্তি প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ট্রাক আটকা পড়ে রয়েছে।
এর মধ্যে পাথর ভর্তি প্রায় ৩ হাজার ট্রাক রয়েছে। পিঁয়াজসহ কাঁচা পণ্যভর্তি প্রায় ৫শ ট্রাক আটকা পড়েছে বলে ভারতীয় এক্সপোর্টর-ইমপোট্রার অ্যাসোসিয়েশনকে এক চিঠিতে জানানো হয়।
সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানি কারক গ্রুপ মহদিপুর এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনকে গত ২৭ এপ্রিল সোমবার থেকে আবারো পণ্য রপ্তানী করার জন্য লিখিত আবেদন করেন আমদানী-রপ্তানী কারক গ্রুপের সাধারন সম্পাদক মো. তোফিকুর রহমান বাবু। কিন্তু ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার দু’দেশের আমদানী-রপ্তানী বাণিজ্য চালু রাখার নির্দেশনা দিলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার তা আমলে নিচ্ছে না।
অন্যদিকে, গত ২৬ এপ্রিল কলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘বাণিজ্য করিডর খোলার নির্দেশ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান সীমান্তে বাণিজ্য করিডর খুললে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিনবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমন ঠেকানো যাবে না। সীমান্তে শিথিলতা দেখাতে রাজি নয় রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র ও নিরাপত্তা অধিকর্তা সুরুজিৎ প্রেট্রাপোল, মালদা, মুর্শিদাবাদ ও শিলিগুড়ি সীমান্তে পরিস্থিতি খোজ করতে পাঠিয়েছিলেন।
তাদের রিপোর্টে এখানো অবাধ বাণিজ্য চালু না করার কথা বলা হয়েছে। এ সংবাদ প্রকাশের পর মহদিপুর স্থলবন্দর এক্সপোট্রার-ইমপোট্রার অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় সরকারের মুখ্য সেক্রেটারির নিকট মহদিপুর স্থলবন্দরের বর্তমান অবস্থা জানিয়ে এক আবেদন পত্র দিয়েছেন। ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, উক্ত বন্দরে ৩ হাজার পাথর ভর্তি ট্রাকসহ কাঁচা পণ্য ভর্তি প্রায় ৫শ ট্রাক আটকা পড়ে রয়েছে। সেহেতু বন্দরে আটকে থাকা বন্দরের ট্রাক গুলি সোনামসজিদ স্থল বন্দরে পাঠানোর ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছেন।
এদিকে, পোর্ট বন্ধের কারণে স্থানীয় বাজারগুলোতে নিত্যপন্যের দাম বেড়েছে। সকল প্রকার কাঁচা মালের দাম বাড়তি। বিশেষ করে ছোলা, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম। তবে সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্থলবন্দরে পন্য খালাস করার কাজে নিয়োজিত প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। তাদের দিন কাটছে বহু কষ্টে। পন্য আমাদনি না হওয়ার কারণে সামান্য কিছু অনুদান পেলেও সেটি দিয়ে চলছে না তাদের। এজন্য এখন কাজের খোঁজে তারা।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লি. কোম্পানির আপারেশনাল ম্যানেজার কামাল উদ্দিন জানান, আমাদের পোর্ট খোলা আছে। পানামা কর্তৃপক্ষ সব সময় প্রস্তত গাড়ি নিতে। গত ২৭ এপ্রিল সোমবার থেকে আমদানি কার্যক্রম শুরু হবার কথা থাকলেও ভারতীয় রপ্তানীকারকদের সিদ্ধান্তের করনে বন্ধ হয়ে যায়।
পানামা পোর্ট লিংক লিঃ এর ম্যানেজার বেলাল হোসেন জানান, আমদানী-রপ্তানী চালু হলে স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে পানামার ভিতরের পণ্য খালাস করা যাবে। তিনি আরো জানান, দ্রব মূল্য কমাতে সহায়ক এমন পণ্য ছাড়া অন্য পণ্য আমদানীর ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হবে।
ইত্তেফাক
বার্তাবাজার/কে.বেজ.