করোনা সংকটে অসহায় মানুষের মাঝে সরকারী ত্রান সুষ্ট বন্টনের নির্দেশ থাকলেও চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার কলাউজান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ওয়ার্ড ভিত্তিক কৌটা অনুযায়ী রেশন কার্ডের জন্য নামের তালিকা জমা দেয়া হলেও চূড়ান্ত তালিকায় গরীব অসহায় বিধবাদের নাম বাদ দিয়ে চেয়ারম্যান অনুসারী স্বজন এবং সচিবের পছন্দের লোক জনের নাম স্থান পেয়েছে এসব তালিকায়। জনরোষে পড়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের কাছে প্রতিকার চেয়ে ব্যর্থ হয়ে ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন এক ইউপি সদস্য। ত্রান লুটপাট করতেই কৌশলে ঠিকানা বিহীন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে বলে দাবী স্থানীয়দের।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নে সরকারী ত্রান বিতরনের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে ১-৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার ও পুরুষ মেম্বারসহ ৪ জনের কাছে ৮০৫ জনের নামের তালিকা ও জাতীয় পরিচয় জমা নিয়েছে ইউপি সচিব মুজাফফর। এতে প্রত্যেক কে আলাদা কৌটা ভাগ করে দেয়া হয়। পুরুষ সদস্য সালাউদ্দীন, আব্দুর রহিম, জামাল উদ্দীনসহ তিন জনের কৌটায় ২শ জন করে ৬শ জন ও নারী ইউপি সদস্য কাউছার আক্তারের ১নং ওয়ার্ডে ৬৪ জন ও ২নং ও ৩নং ওয়ার্ডে ৭০ জন করে ১৪০জনসহ মোট ২০৪ জনের কৌটা দেয়া হয়। কিন্তু গত ২৭এপ্রিল যাচাই বাচাই শেষে প্রত্যেক পুরুষ মেম্বারদের তালিকা ঠিক থাকলেও মহিলা মেম্বার কাউছার আক্তারের ১নং ওয়ার্ডে ৪৫জনের নাম বাদ দিয়ে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাছাড়া ৩নং ওয়ার্ডে ৭০ জনের মধ্যে যাদের নাম এসেছে তাদের নাম ঠিকানায় ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। এদিকে তালিকায় নিজেদের নাম না দেখে পরিচয় পত্র জমাদেয়া ব্যক্তিদের রোষানলে পড়েছেন এই নারী ইউপি সদস্য।
নারী ইউপি সদস্য কাউছার আক্তার বার্তা বাজার কে জানান, চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিব কে তালিকা সংশোধনের দাবী জানালে তাদের কিছুই করার নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তালিকাটি সংশোধনের জন্য ২৮ এপ্রিল লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়।
এদিকে তালিকা থেকে ঝরে পড়া ব্যক্তিরা বার্তা বাজার কে একটি নামের তালিকা দিয়ে অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ ও ইউপি সচিব মুজাফফর মিলে আমাদের নাম বাদ দিয়ে তালিকায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নাম সংযুক্ত করে ত্রান লুটের পায়তারা শুরু করেছে। আবার অনেকের দাবী, চেয়ারম্যানের মতবিরোধীদের বাদ দিয়ে নিজ অনুসারীদের সরকারী ত্রান সুবিধা দিয়ে আগামী ইউপি নির্বাচনী মাঠ ঘুচিয়ে নিচ্ছে।
ইউপি সচিব মোজাফফর- মহিলা মেম্বার কাউছারের অভিযোগ অসত্য দাবী করে বলেন, যাদের এনআইডি কার্ড দিয়েছে তাদের নাম তালিকায় এসেছে। ৩নং ওয়ার্ডের তালিকায় নাম ঠিকানা বিহীন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি এনআইডি কার্ডে ঠিকানা অস্পষ্ট থাকার কারনে উল্লেখিত ব্যক্তিদের নামের পাশে ঠিকানা উল্লেখ করা যায়নি বলে পারপাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বার্তা বাজারের হাতে আসা তালিকার সাথে সচিবের বক্তব্যার সাথে ব্যাপক অমিল রয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা জানতে চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার আসুস্থতার কারনে তালিকা প্রস্তুতের দায়িত্বে ছিলো প্যানেল চেয়ারম্যান জব্বার আর সচিব মুজাফফর। তালিকা সংশোধনের জন্য মহিলা মেম্বার কাউছার আমাকে অভিযোগ জানিয়েছে। অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি সচিব আর সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বারদের কারসাজি হতে পারে বলে আমার ধারনা। তালিকায় কারসাজিতে নিজের দ্বায় বদ্ধতা এড়ানোর সুযোগ আছে কিনা এমন প্রশ্নে জবাবে, তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন। তবে তালিকা যাচাই না করে কিভাবে ইউএনও কার্যালয়ে পাঠালেন এমন প্রশ্নের জবাবে সচিবের কথার উপর নির্ভর করাটাই ভূল হয়েছে বলে জানান।
বিস্তারিত আলাপে চেয়ারম্যানের সাথে আতাত করে সচিব সুপরিকল্পিত ভাবে গরীবের ত্রাণ চুরির করতে এসব ছল চাতুরীর আশ্রয় নিয়েছে বলে সাধারণ মানুষের এমন ধারণার সাথে অনেকটা মিল পাওয়া গেছে। চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে ১০বছর একই ইউনিয়নে ঘাপটি মেরে থাকা মুজাফফরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও উঠে এসেছে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌসিফ তালিকা সংশোধনের আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তালিকা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টিতে অনিয়ম হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাশ হওয়ার কিছুই নেই, আমার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আমি চাইনা এই দূর্যোগে কেউ অনাহারে থাকুক। যারা বাদ পড়েছে তারা আমার সাথে যোগাযোগ করলেই ত্রাণ পৌছানোর ব্যবস্থা করা হবে।
বার্তা বাজার/কেএ/এস.আর