হাট-বাজারে ভিক্ষাবৃত্তি করে যারা নিজেরাই চলেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সেই হিজড়ারাই নিজেদের জমানো টাকা অনুদান হিসেবে দিলেন।
সোমবার বিকেলে নিজেদের জমানো ১৫ হাজার টাকা শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ বি এম এহছানুল হক মামুনের হাতে তুলে দেন।
জানা গেছে, গত চার মাস আগে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সমাজসেবা বিভাগে ৫২ জন হিজড়া ৫০ দিন ব্যাপী সেলাই, পশু পালন ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নেয়। তাদের প্রতিদিন জনপ্রতি ৩ শত টাকা ভাতা হারে ৫০ দিনে ১৫ হাজার টাকা এবং প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেকে এককালীন ১০ হাজার টাকাসহ ২৫ হাজার করে টাকা ও একটি করে সার্টিফিকেট পায়। সেখান থেকে তারা প্রত্যেকে কিছু কিছু টাকা দিয়ে তাদের জরুরি চিকিৎসা করার জন্য ১৫ হাজার টাকার একটি তহবিল গঠন করে। যা দ্বারা তাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যের কাছে হাত না পেতে জরুরি চিকিৎসা নিতে পারে।
কিন্তু তারা জাতির এই করোনা মহামারীর ক্রান্তিকালে তাদের জমানো ১৫ হাজার টাকা ত্রাণ তববিলে জমা দেয়।
শেরপুর হিজড়া কল্যান সংস্থার সভাপতি নিশি সরকার জানান, সম্প্রতি সরকার তাদেরকে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সমাজসেবা থেকে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করে দেয়। সেই প্রশিক্ষণের প্রাপ্ত ভাতা থেকে ১৫ হাজার টাকার যে তহবিল গঠন করেছিলাম। আমরা মনে করি আজ সেই টাকা এই করোনা মহামরীতে অসহায়দের প্রয়োজন। এই ভেবে আমরা ১৫ হাজার টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রদান করলাম।
শেরপুরের নয়আনী বাজারে এ অর্থ হস্তান্তরের সময় অতরিক্ত জেলা প্রশাসক তোফায়েল আহাম্মদ, সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান মাহমুদ, আশরাফুল আলম রাসেল, জনউদ্যোগ এর আহবায়ক আবুল কালাম, শেরপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শরিফুর রহমান, জেলা প্রশাসকের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস