করোনার সংক্রমণ এড়াতে মুসলিম বিক্রেতাদের কাছ থেকে শাকসবজি না কেনার পরামর্শ দিলেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের এক বিজেপি বিধায়ক। তবে এ নিয়ে বিরোধী দলসহ নেটিজেনরা তার ব্যাপক সমালোচনা করছে।
কিন্তু তার ভাষায়, তিনি কোনও ভুল কথা বলেননি। এ নিয়ে অহেতুক হইচই করা হচ্ছে। আত্মপক্ষ সমর্থন করে সমালোচকদের উদ্দেশে ওই বিধায়কের প্রশ্ন, বিষয়টিকে এত বড় ইস্যু করা হচ্ছে কেন?
গত সপ্তাহেই করোনাভাইরাসের মতো মহামারির দাপটের সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করোনা ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাইকেই আঘাত করে সে কথাও বলেছিলেন তিনি। এটিকে রুখতে সকলকেই একসঙ্গে লড়াই করার আবেদনও জানান প্রধানমন্ত্রী। তবে মোদির সেই আহ্বান সত্ত্বেও উত্তরপ্রদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের অভিযোগ উঠছে একাধিক বার।
ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে। লকডাউন পরিস্থিতি পরিদর্শনে উত্তরপ্রদেশের দেবরিয়া জেলায় নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বরহজে গিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক সুরেশ তিওয়ারি। সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় তাদেরকে ওই বিতর্কিত পরামর্শ দেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়োতে দেখা গেছে সুরেশ বলছেন, একটা কথা মনে রাখুন। আমি সবাইকে খোলাখুলিই বলছি, মিয়াদের (মুসলিমদের) কাছ থেকে সবজি কেনার কোনও প্রয়োজন নেই।
মঙ্গলবার দেবরিয়ায় নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সুরেশ। এদিন তিনি আরও দাবি করেন, এইএমআইএম (অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদ উল-মুসলিমীন) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি হিন্দুদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করলে তা নিয়ে কেউ আপত্তি করেন না। আর একজন বিধায়ক তার কেন্দ্রের মানুষজনের ভালোর জন্য কিছু বললেই তা নিয়ে এত বড় ইস্যু করা হয়।
সুরেশের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের পাশাপাশি সরব হয়েছেন সাবেক অভিনেত্রী তথা উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেত্রী নাগমা। নিজের টুইটার হ্যান্ডলেও ওই ভিডিওটি শেয়ার করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ট্যাগ করে তিনি লিখেছেন, আপনার নেতাদের এ ধরনের কাজ করতে নিষেধ করুন। তারা তো কিছুই বোঝেন না।
খবর আনন্দবাজার।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি